Sreelekha Mitra। স্বরূপের গ্রেফতারের পর ফাঁস টলিউডের অন্দরমহলের গল্প

Spread the love

৪ জুন রাতে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতারের পরেই যেন এক অলিখিত আনন্দের জোয়ারে ভেসে ওঠে গোটা টলিউড। এতদিন ধরে টলিউডে যে অরাজকতা চলছিল, তার বিরুদ্ধে একে একে মুখ খুলছেন সকলেই। তবে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের পর যে ঘটনাটা সবার আগে আর সব থেকে বেশি সকলের মুখে শোনা যাচ্ছে, সেটি হল গত ৭ এপ্রিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওয়ে শ্রীলেখার অপমানের কথা।

রাহুলের মৃত্যুর পর আর্টিস্ট এবং কলা কুশলীদের নিরাপত্তার দাবিতে একটি বৈঠক করা হয়েছিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওর অন্দরে। কিন্তু বৈঠকের মাঝেই আচমকা শ্রীলেখাকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। সেদিন ঠিক কী হয়েছিল সেটা জানা না গেলেও এবার একে একে সেদিনের ঘটনা প্রকাশ্যে নিয়ে এলেন অরিত্র দত্ত বনিক এবং অভিনেতা জয়রাজ ভট্টাচার্য।

স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের পর শ্রীলেখা একটি পোস্ট করে লেখেন, ‘কেউ একদিনে স্বরূপ হয় না। সিস্টেম তাকে সেটা বানায়। সেদিনটাকে ভুলিনি, যেদিন স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে মাত্র একটা লাইন বলার অপরাধে এই মানুষগুলো আমার উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল। আজ জানতে ইচ্ছা করছে এই বিশ্বাসের গ্রেফতারের খবরে তারা কি মর্মাহত নাকি আনন্দিত?’

শ্রীলেখার এই পোষ্টের কয়েক ঘন্টা পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন অরিত্র। তিনি লেখেন, ‘রাহুলের মৃত্যুর পর আর্টিস্ট ফোরামে যে মিটিং ডাকা হয়েছিল, সেখানে মাত্র ৯ মিনিট ছিলাম। তারপর বেরিয়ে অফিসে চলে আসি। সেদিন স্বরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে তার নামটুকু উচ্চারণ করার পর কিছু লোক রে রে করে উঠেছিলেন। শ্রীলেখা মিত্রের হাত থেকে মাইক অবধি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কারা অসভ্যতা করেছিলেন দেখেছিলাম, ফোরামের সদস্য হওয়ার কারণে আমি নামগুলো বলিনি।’

শ্রীলেখার ওপর অন্যায়ের কথা উল্লেখ করে অভিনেতা, জয়রাজ ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘কদিন আগে রাহুলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে একদিন কোনও মিটিং হচ্ছিল, যেখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যেতে দেখি শ্রীলেখাকে। জানা যায়, উনি স্বরূপ বিশ্বাসের মাতব্বরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সেখানে। কিন্তু শ্রীলেখাকে সেদিন কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। শ্রীলেখার বন্ধুরাই বুঝিয়ে দিয়েছিল সেটা নাকি এই প্রশ্ন তোলার সঠিক সময় নয়। তখন তো আর সরকার পাল্টাইনি! তখনও তো স্বরূপ বিশ্বাসদেরই সরকার। তাই স্বাভাবিকভাবেই সঠিক সময় হয়নি।’

এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ও। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘স্বরূপ বিশ্বাস পুলিশের হেফাজতে বলে যারা উল্লাসে ফেটে পড়ছেন, তারা সেদিন রাহুলের স্মরণ সভায় শ্রীলেখাকে কথা বলতে দেননি কেন? বাক স্বাধীনতা তো সকলের আছে বলেই জানি। কেন ওর হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হল?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *