বিগত বেশ কিছু সময় ধরে, ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশকে নিয়ে বহু দাবি দাওয়া করে আসছে চিন। বেইজিং আবারও অরুণাচল প্রদেশের ওপর তার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে সদ্য। এই অরুণাচলকে তারা ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বত বলে উল্লেখও করেছে। এই নাম চিনের দেওয়া। এদিকে অরুণাচল নিয়ে বেজিং তার অবস্থান জানানোর পরই গর্জে উঠলেন বেজিংকে কার্যত মোক্ষম জবাব দিয়ে সরব হয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু।
বুধবার শিলংয়ে উত্তর-পূর্ব পরিষদের (এনইসি) ৭৩তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ফাঁকে কথা বলতে গিয়ে খান্ডু অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক দাবিকে ‘অর্থহীন’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন এবং বলেছেন, অরুণাচল উন্নয়ন ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে মনোনিবেশ করছে। চিনকে মোক্ষম জবাব দিয়ে পেমা খান্ডু বলেন, ‘ চিনের অরুণাচল প্রদেশ দাবি করা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়, এবং আমরা এ নিয়ে বিন্দুমাত্র পরওয়া করি না। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিই না।’ সদ্য অরুণাচলের জাংনান নাম নিয়ে বেজিং মুখ খুলতেই চিনকে এই জবাব দেন সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। চিন কর্তৃপক্ষ, ভারতের অরুণাচলের গ্রাম, নদী, গিরিপথ এবং অন্যান্য স্থানের চিনা নাম দিয়ে বেশ কয়েকটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যা ভারত ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
শিলং-র মঞ্চ থেকে পেমা খান্ডুর সাফ বার্তা, ‘এটা আর ১৯৬২ সাল নয়।’ সীমান্ত ইস্যুতেও অরুণাচল প্রদেশের অবস্থান সাফ করে পেমা খান্ডু জানান, ‘চিনের সাথে আমাদের কোনও সীমান্ত নেই। তিব্বতের সাথে আমাদের সীমান্ত রয়েছে।’ অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ওপরই মনোযোগ রাখা উচিত এবং তিনি উল্লেখ করেন যে অরুণাচল প্রদেশে পরিকাঠামো, সীমান্ত সংযোগ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সীমান্তে চিনের দীর্ঘদিনের অন্যতম সুবিধা ছিল তিব্বতে সড়ক, রেলপথ এবং সরবরাহ নেটওয়ার্কে তাদের বিনিয়োগ। তবে, ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অরুণাচল প্রদেশ এবং অন্যান্য হিমালয় রাজ্যগুলোতে সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করেছে, যার ফলে সীমান্ত এলাকাগুলোতে সংযোগ ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।বেইজিং অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের জন্য তথাকথিত ‘ স্ট্যান্ডার্ডাইজড নামের’ নতুন তালিকা প্রকাশ করলেও, নয়াদিল্লি জোর দিয়ে বলছে যে এই ধরনের দাবি সার্বভৌমত্ব বা বাস্তব পরিস্থিতিকে পরিবর্তন করতে পারে না।
