নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যেই ২,১০৩ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। বুধবার সন্ধ্যায় দুটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রথম তালিকায় সেইসব প্রার্থীরা আছেন, যাঁদের নাম সিবিআইয়ের ‘ওএমআর মিসম্যাচ’-র আওতায় ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরির জন্য তাঁদের নাম সুপারিশ করা হয়নি। আর দ্বিতীয় তালিকায় আছে শিক্ষাকর্মীদের নাম। কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে, ২০১৬ সালের নিয়োগ মামলায় সিবিআইয়ের ‘ওএমআর মিসম্যাচ’-র তালিকায় ওই প্রার্থীদের নাম আছে, যাঁদের চাকরির জন্য সুপারিশ করা হয়নি।
২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আজ যে তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন, তাতে মোট ২৫০ জনের নাম আছে। তাঁদের কী বিষয় ছিল, অভিভাবকের নাম, জন্মতারিখ, রোল নম্বর এবং কোন স্তরের ক্লাসের জন্য আবেদন করেছিলেন, সেই সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে কমিশন। আর শিক্ষাকর্মীদের তালিকায় ১,৮৫৩ জনের নাম আছে। সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। কারা ক্লার্ক নাকি গ্রুপ ‘ডি’ পদে আবেদন করেছিলেন, সেটাও উল্লেখ করে দিয়েছে এসএসসি।

ওএমআর মিসম্যাচের বিষয়টা কী?
এমনিতে ২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যে দাগি প্রার্থীদের (দাগি অযোগ্য প্রার্থী) চিহ্নিত করা গিয়েছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে তিনটি উপায়ে (ওএমআর শিটে কারচুপি, র্যাঙ্কজাম্প এবং প্যানেলে না থেকেও নিয়োগ) জালিয়াতির কথা বলা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার কপিতে উঠে এসেছিল, সিবিআইয়ের দেওয়া তথ্যের নিরিখে নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৯৫২ জনের ওএমআর মিসম্যাচের ঘটনা ঘটেছিল। তাঁদের মধ্যে চাকরি পেয়েছিলেন ৮০৮ জন। আর ১৪৪ জন চাকরি পাননি।
আবার একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ওএমআর মিসম্যাচ হওয়া প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৯০৭। তাঁদের মধ্যে ৭৭২ জন চাকরি পেয়েছিলেন। ১৩৫ জন চাকরি পাননি। গ্রুপ ‘সি’-র ক্ষেত্রে ওএমআর মিসম্যাচ হয়েছিল ৩,৪৮১ জনের। ৭৮২ জন চাকরি পেয়েছিলেন। অর্থাৎ ২,৬৯৯ জন চাকরি পাননি। গ্রুপ ‘ডি’-র ক্ষেত্রে সিবিআই ২,৮২৩ জনের ক্ষেত্রে ওএমআর মিসম্যাচের হিসাব পেয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১,৯১১ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল।