মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণার পরপরই হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা ইরানের। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রাফিক অর্গানাইজেশন (ইউকেএমটিও) বুধবার জানায়, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসির গানবোট। এদিকে গুলি চালানোর আগে কোনও রেডিয়ো সতর্কতাও দেয়নি ইরান।
ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। প্রসঙ্গত, হরমুজ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। দেশের চাহিদা মেটাতে ৮০ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ভারত আমদানি করে থাকে। যার একটি বড় অংশ উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে। এই তেল বেশিরভাগ হরমুজের মধ্য দিয়ে ভারতে আসে। একই সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই হরমুজের পথ দিয়েই যায়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো প্রধান জ্বালানি উত্পাদনকারী দেশগুলি তাদের রফতানির জন্য এই রুটের উপর নির্ভর করে।
এর আগে হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে সম্প্রতি গুলি ছুড়েছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনী আরব সাগর এবং ওমান সাগরে ৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে জাহাজ পাহারা দেওয়া শুরু করেছে। গোলাগুলির ঘটনার পর ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, হরমুজ অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করা ভারতীয় জাহাজগুলির সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিশ্চিত করেছেন যে এই ঘটনায় ভারত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় আইআরজিসি ইউনিটের মধ্যে ‘যোগাযোগের অভাবের’ ফলস্বরূপ এই গুলি চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে কমপক্ষে ১৪টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এখনও নোঙর করে আছে। এর মধ্যে তিনটি বড় তেলের ট্যাঙ্কার এবং একটি এলপিজি ক্যারিয়ার রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারতের ১০টি জাহাজ ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে দেশে এসেছে।
