হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কার্যত থমকে আছে ইরান যুদ্ধের আবহে। এখনও পর্যন্ত ২০টিরও বেশি জাহাজে হামলা হয়েছে এই অঞ্চলে। তবে ভারতের বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার নিরাপদে পাড়ি দিয়েছে হরমুজ প্রণালী। এরই মধ্যে আবার জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে যে ইরানের অনুমতি নিয়ে এবং তাদেরকে ‘ফি’ দিয়ে সেখান থেকে জাহাজ নিয়ে আসতে হচ্ছে ভারতকে। এই গুঞ্জন শুরু হতেই এবার মুখ খুলল ভারত সরকার। এই আবহে সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট করা দেওয়া হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে কোনও দেশের অনুমতির প্রয়োজন নেই।
পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ে আসতে ইরানের সঙ্গে কথা হয়েছিল ভারতের। এই আবহে প্রথমে আমেরিকার আধিকারিকরা দাবি করেছিল, ভারতের সঙ্গে নিশ্চয় ইরানের কোনও চুক্তি হয়েছে। পরে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার বিনিময়ে নাকি ইরান তাদের বাজেয়াপ্ত হওয়া তিনটি ট্যাঙ্কার ফেরত চেয়েছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে আবার গুঞ্জন শুরু হয়েছে হরমুজ প্রণালীর ‘ফি’ নিয়ে। এই পরিস্থিতে জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিং বলেছেন যে নিরাপত্তা এবং অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করে শিপিং সংস্থাগুলি হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম অনুযায়ী প্রণালীয়ে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রয়েছে। যেহেতু প্রণালীটি সংকীর্ণ, তাই জহাজগুলির জন্য প্রবেশ এবং প্রস্থানের রুট চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং সেটাই সমস্ত জাহাজকে অনুসরণ করতে হবে। তিনি আরও জানান, জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য কোনও ফি বা অর্থ দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম অংশে আটকে পড়া জাহাজগুলির মধ্যে প্রায় ২.৩ লক্ষ টন রান্নার গ্যাস সহ ভারতের পাঁচটি এলপিজি জাহাজ রয়েছে। এছাড়া একটি খালি জাহাজে এলপিজি ভরার কাজ শুরু হয়েছে। একটি এলএনজি ট্যাঙ্কার, চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার, রাসায়নিক পণ্য পরিবহনকারী একটি ট্যাঙ্কার, তিনটি কনটেইনার জাহাজ, দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং আরও তিনটি জাহাজ রুটিন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ড্রাই ডকে আছে ওই অঞ্চলে। সম্প্রতি আরও দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি জাহাজ যুদ্ধবিধ্বস্ত হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ম্যাঙ্গালোরে পৌঁছাবে এবং অপরটি গুজরাটের কান্দলায় পৌঁছাবে।
