এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ বিপাকে পড়েছেন। কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন তিনি। ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে দেখা যায়, রায়গঞ্জ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। তবে স্বপ্না বর্মণ রেলের চাকরি করেন। এই আবহে ভোটে লড়তে গেলে তাঁকে আগে সেই চাকরি ছাড়তে হবে। সেই মতো রেলকে পদত্যাগপত্রও পাঠান স্বপ্না। তবে মনোনয়ন পেশ করার সময় চলে এলেও স্বপ্নার ইস্তফাপত্র এখনও গ্রহণ করেনি রেল। এহেন পরিস্থিতিতে স্বপ্নার ভোটে লড়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর তাই কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন স্বপ্না। এরই সঙ্গে ভোটে লড়াই করতে মরিয়া স্বপ্না রেলকে জানিয়েছেন, তিনি অবসরকালীন কোনও সুযোগ সুবিধা নেবেন না।
হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে স্বপ্নার আবেদন, রেল যাতে তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করে। এদিকে রেল কেন এখনও স্বপ্নার ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেনি? জানা গিয়েছে, গত ১৬ মার্চ চাকরি ছাড়তে চেয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেছিলেন স্বপ্না বর্মণ। এদিকে রেলের বক্তব্য, রেলওয়ের কর্মচারী হিসেবে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া, সভায় যোগ দেওয়া কিংবা দলের পক্ষে প্রচার চালানো যায় না। এই আবহে রেলের চাকরি ছাড়ার আগেই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন স্বপ্না বর্মণ। তাই তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে তদন্ত শুরু হয়েছে। গত ৯ মার্চ সেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তার একসপ্তাহ পরে স্বপ্না নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। সেই সময় স্বপ্নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলায় সেই ইস্তফা গ্রহণ করা হয়নি রেলের তরফ থেকে।
এদিকে আদালতে রেল জানিয়েছে, স্বপ্না বর্মণ যদি তাঁর দোষ স্বীকার করেন এবং রেলের কাছে অবসরকালীন কোনও সুযোগ সুবিধা না চান, তাহলে রেল তাঁকে ছাড়পত্র দেবে। এই আবহে স্বপ্না জানিয়ে দেন, রেলের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কোনওরকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা পেনশন তিনি ভোগ করবেন না। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন কর্তৃপক্ষকে ইমেল করে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর কয়েকদিন আগেই নিজের বাবাকে হারিয়েছেন স্বপ্না। শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। এই আবহে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ভোটের টিকিট পেলেও এখনও সেভাবে প্রচারে নামতে পারেনি স্বপ্না। এরই সঙ্গে রেলের চাকরি ছাড়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
