৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে নির্বিচারে গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। নিজের সহযোগীর এই পরিণতি নিয়ে শুভন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে বললেন, ‘পরিকল্পনামাফিক ঠান্ডা মাথায় এই খুন করা হয়েছে।’ এদিকে তিনি আরও বলেছেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সূত্র পেয়েছে পুলিশ।’ তবে কী সেই সূত্র? শুভেন্দু বলেন, ‘সঠিক তদন্তের স্বার্থেই ফুটেজের বিষয়ে কোনও তথ্য চাওয়া হয়নি পুলিশের কাছ থেকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই খুনের সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে।’ যদিও এই নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। সঙ্গে কর্মী-সমর্থকদের শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু।
শুভেন্দু বলেন, ‘দুই তিনদিন ধরে রেইকি করে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন ডিজিপি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মর্মন্তিক ঘটনা। আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা শোকাহত এবং এই ঘটনার নিন্দা জানানোর মতো ভাষা আমাদের নেই। দিল্লি থেকে আমাদের সমগ্র নেতৃত্ব এই বিষয়ে খবর পেয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মৃতের পরিবার এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিভিন্ন নেতা এবং নব-নির্বাচিত বিধায়করা এখানে এসেছেন। তাঁরাও পরিবারের পাশে রয়েছেন। পুলিশ কিছু প্রমাণ পেয়েছে এবং তাঁরা তদন্ত করবে।’
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো নেতা বলেন, ‘পুলিশের উপর আস্থা রয়েছে আমাদের। অভয়ার মতো বিচারহীন থাকবে না চন্দ্রনাথ রথ। দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে পুলিশের তরফে। এটা ১৫ বছরের মহা জঙ্গলরাজের ফল। বিজেপি এখানে গুন্ডাদের নির্মূল করার কাজ শুরু করবে।’ এদিকে এই খুনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা বলেছেন, ‘আমরা তদন্ত শুরু করে দিয়েছি। আমরা একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছি, যেটিকে অপরাধের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে নম্বর প্লেট বিকৃত করা হয়েছে। যে গাড়ির নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা আসলে শিলিগুড়ির একটি গাড়ির। কিন্তু আসলে এটা বিকৃত করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি কার্তুজ ও লাইভ রাউন্ড বাজেয়াপ্ত করেছি। আমরা যে তথ্য পেয়েছি, সেটা ধরে এগিয়ে চলেছি। আর এই মুহূর্তে আমি শুধু এই তথ্যগুলোই জানাতে পারি।’

রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যমগ্রামে তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাঁর বুকে ২টি গুলি লেগেছিল। সেগুলি হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয়। আর অপর গুলিটি তাঁর পেটের কাছে লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে বুদ্ধদেবকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।