শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ককে গুলি করে খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য। আর এরই মাঝে ফের আক্রান্ত এক বিজেপি কর্মী। রিপোর্ট অনুযায়ী, বসিরহাটে গুলি করা হল এক বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে। জখম বিজেপি কর্মীর নাম রোহিত রায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাতেই কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরাই রোহিতকে গুলি করেছে।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট স্টেশন সংলগ্ন গোডাউন পাড়ায়। রোহিতের হাতে গুলি লাগে। গুলি চলার খবর পেয়েই বিজেপি নেতা তন্ময় মণ্ডল এবং বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য তড়িঘড়ি হাসপাতালে গিয়ে রোহিতের সঙ্গে দেখা করেন। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই রোহিতকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল? গুলিবিদ্ধ রোহিত বলেন, ‘আমরা বিজেপির পতাকা লাগাচ্ছিলাম পাড়ায়। ওরা চার-পাঁচজন ছিল। কয়েকজন প্রথমে গুলি করেছিল আমার গায়ে লাগেনি পালিয়ে যাই। পরে ফের এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। জাহিনুর, সন্টু, ভোলা, উজ্জ্বল… এরা সকলে দলবল মিলে গুলি চালিয়েছে।’ উল্লেখ্য, এর আগে সন্দেশখালি এলাকায় পুলিশের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল গত ৫ মে রাতে। ন্যাজাট থানার ওসির ভরত প্রসূন কর, রাজবাড়ি ফাঁড়ির কর্মী ভাস্বত গোস্বামী এবং এক মহলা কনস্টেবল এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গে দুই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানও আহত হন ছররা গুলিতে।
উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে বিজেপি এবং তৃণমূল দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটেছে এই পর্যন্ত। হাওড়া, নিউটাউনে খুন হন বিজেপির ২ কর্মী। বেলেঘাটা, নানুরে প্রাণ হারান তৃণমূলের দুই কর্মী। এরই সঙ্গে বহু জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের অভয় প্রদান করে এসেছেন। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের একটি অংশ এখন অপর পক্ষকে বিজেপি পতাকা হাতে মারছে। এই আবহে সদ্য তৃণমূল থেকে স্বঘোষিত বিজেপি হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সাবধান গেরুয়া শিবির। এরই সঙ্গে পুলিশের কাছে পদ্ম শিবিরের আবেদন, যেই দোষ করুক, দলমত নির্বিশেষে যেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
