সেবাশ্রয় শিবিরকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে শনিবার বিধানসভায় বড় ঘোষণা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি সূত্রে খবর, সেবাশ্রয় প্রকল্পে আর্থিক দুর্নীতি, চিকিৎসায় গাফিলতি এবং বেআইনি চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তিনি বিস্তারিত বিবৃতি দেবেন। একইসঙ্গে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও তথ্যও প্রকাশ করা হতে পারে।
সরকারি সূত্রের দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ, বিভিন্ন বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে জোর করে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি আনা হয়েছিল। এছাড়া শিবির সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত ওষুধও উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই সমস্ত বিষয় নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন।
সেবাশ্রয় শিবিরকে ঘিরে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণে কয়েকজন রোগী গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও হাত কেটে ফেলতে হয়েছে, আবার কারও পা বাদ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই এই ধরনের একাধিক ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
শুক্রবার বিধানসভায় এই বিষয়টি নিয়ে সরব হন ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা। তিনি অভিযোগ করেন, সেবাশ্রয় শিবিরের নামে দীর্ঘদিন ধরে একটি খেলার মাঠ দখল করে রাখা হয়েছিল। সেই অস্থায়ী পরিকাঠামো সরিয়ে মাঠকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসার নামে নানা অনিয়ম ও সাধারণ মানুষের ক্ষতির বিষয়টি বিধানসভায় তোলেন।

এর জবাবে পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে একাধিক অভিযোগ সরকারের কাছে এসেছে। অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিবেচনা করেই মুখ্যমন্ত্রী শনিবার বিধানসভায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন।
এদিকে, শুধু সেবাশ্রয় নয়, শনিবার বিধানসভায় রাজ্যের প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (ক্যাগ)-এর একাধিক রিপোর্টও পেশ করা হবে। জানা গিয়েছে, মোট ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় জমা পড়বে। এর মধ্যে আমফান-পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনে অনিয়ম সংক্রান্ত বিশেষ নিরীক্ষা রিপোর্টও রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, ক্যাগ রিপোর্টে যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সেখানে প্রয়োজন হলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রী বা অন্য কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করা হবে।
উল্লেখ্য, সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, সামান্য অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকেই গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছেন। এক মহিলার পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলে অভিযোগ। আবার একটি শিশুর ক্ষেত্রেও ভুল চিকিৎসার কারণে হাত হারানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।