ভারতীয় বায়ুসেনায় ছিলেন – সেই চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুন করা হয় মধ্যমগ্রামে। সূত্রের খবর, বায়ুসেনা থেকে অবসরগ্রহণের পরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। একেবারেই ছায়াসঙ্গী হয়ে উঠেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতার। যাবতীয় কাজকর্ম সামলাতেন – সেটা রাজনৈতিক হোক বা অরাজনৈতিক কর্মসূচি। শুভেন্দু তাঁকে ‘ভাইয়ের’ চোখে দেখতেন। এতটাই অমায়িক ছিলেন যে সাংবাদিকদের সঙ্গেও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। মুখে সারাক্ষণ হাসি লেগে থাকত। সেই চন্দ্রনাথের খুনের ঘটনায় হতবাক হয়ে গিয়েছেন সকলেই।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন শমীক
সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ভারতীয় বায়ুসেনার জওয়ান ছিলেন চন্দ্রনাথ। তাঁর মা বিজেপির নেত্রী। সেই তৃণমূল কংগ্রেস চন্দ্রনাথকেই গুলি করে বিজেপিকে বার্তা দিতে চাইল বলে অভিযোগ করেছেন শমীক।
দীর্ঘক্ষণ ‘ফলো’ করে খুন চন্দ্রনাথকে?
আর সেই খুনের ঘটনা ঘটেছে মধ্যমগ্রামে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে যে অনেকক্ষণ ধরেই আততায়ীরা চন্দ্রনাথের গাড়ি অনুসরণ করছিল। গাড়ির চালকের পাশেই বসেছিলেন চন্দ্রনাথ। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার কাছে গুলি চালায় আততায়ীরা। উল্টোদিক থেকে যখন গুলি চালানো হয়, তখন গাড়ির কাচ তোলা ছিল। তারপরও কাচ ফুঁড়ে চন্দ্রনাথ ও গাড়ির চালকের শরীরে গুলি ঢুকে যায়। তারপরই ঘটনাস্থলে থেকে পালায় পুলিশ।একটি মহলের তরফে দাবি করা হয়েছে, সম্ভবত একেবারে পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে। সেইমতো ‘ফলো’ করা হচ্ছিল। তারপর একটা জায়গায় তাঁদের গাড়ির সামনে একটি ছোটো গাড়ি এসে দাঁড়ায়। সেইসময় বাইকে করে এসে গুলি করে পালায় আততায়ী। গাড়িতে যে ছিল, সেও সম্ভবত বাইকে করে পালায় বলে ওই মহলের তরফে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের তরফে কী জানানো হল?
যদিও সেই বিষয়টি নিয়ে আপাতত পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি। সূত্রের খবর, ঘটনাস্থলে আসছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে আততায়ীদের। বারাসতের পুলিশ সুপার পুষ্পা জানিয়েছেন যে তদন্ত চলছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ।