ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিংসার খবর আসছে। কিন্তু এবার টার্গেট খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর খুব কাছের মানুষ। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহরিয়ায় গাড়ি থামিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হলো শুভেন্দুর একনিষ্ঠ সঙ্গী চন্দ্রনাথ রথ-কে। এই ঘটনায় শোকাতুর ও ক্ষুব্ধ বিজেপি শিবিরের অন্যতম সেনানি রুদ্রনীল ঘোষ।
তৃণমূলকে তোপ রুদ্রনীলের:
ফেসবুক পোস্টে রুদ্রনীল ঘোষ তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন— ‘তৃণমূল প্রমাণ দিল তারা তৃণমূল। ভাই চন্দ্রনাথ রথ শুধু শুভেন্দুদার আপন ছিল না, আমাদের সবার আপন ভাই ছিল। মনে রেখো তৃণমূল।’ রুদ্রনীলের এই বার্তার পর রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তাঁর অভিযোগের তির স্পষ্টতই শাসক দলের দিকে।
কী ঘটেছিল বুধবার রাতে?
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, কাজ সেরে কলকাতায় ফেরার পথে দোহরিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকে তিন-চার জন দুষ্কৃতী অতর্কিতে হামলা চালায়। তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। বাইক থেকে গুলি করে দুষ্কৃতী। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় গুরুতর জখম গাড়ির চালক। তাঁরও তিনটে গুলি লেগেছে। শুভেন্দু অধিকারী নিজে হাসপাতালে গিয়ে দেহটি শনাক্ত করেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ভোট পরবর্তী হিংসার ছায়া:
নির্বাচনে জয়ের আনন্দ ম্লান করে দিয়ে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে রাজনৈতিক হত্যা—এমনটাই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। রুদ্রনীল ঘোষের মতো নবনির্বাচিত বিধায়করা এখন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানোর কথা বলছেন। রুদ্রনীলের হুঁশিয়ারি থেকে স্পষ্ট যে, এই ঘটনাকে ঘিরে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তাল হতে চলেছে।

তৃণমূলের পাল্টা দাবি:
যদিও এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এর পেছনে কোনো অভ্যন্তরীণ বিবাদ বা অন্য কারণ থাকতে পারে, পুলিশ তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।