মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য অর্জুন সিংয়ের। তিনি অভিযোগ করলেন, বাংলাদেশ থেকে লোক ভাড়া করে এই খুনের ছক কষা হয়ে থাকতে পারে। এরই সঙ্গে নোয়াপাড়ার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ‘ভালো অফিসার’ এই খুনের ‘মাথা’ হতে পারেন। অর্জুনের কথায়, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে পেশাদার খুনি।
উল্লেখ্য, চন্দ্রনাথ খুনের কথা জানতে পেরেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন অর্জুন সিং। সেখানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ৯ এমএম পিস্তল দিয়ে খুন। এটা এজেন্সির থেকে শিখে আসা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খুনির কাজ। খুনি কত রকমের হয়? এক ধরনের হয় প্রফেশনাল বা এজেন্সি মারফত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা ভালো অফিসার আছে। সে তো খুনের মাস্টার। সে কোনও লোককে হয়ত ভাড়া করেছে বাংলাদেশ থেকে।’
এদিকে এই ঘটনায় খুনি যে পেশাদার, তা মেনে নিচ্ছে পুলিশও। ছোট যে গাড়িটি খুনে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে পুলিশের তরফে। সেই গাড়িটির নম্বরটি ভুয়ো বলে জানা গিয়েছে। তবে এই গাড়ির আগের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এই গাড়ির চ্যাসিস নম্বর সব জায়গা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকী গাড়ির রেডিয়েটরের পাশে যে স্টিকার থাকে, তাও ঘষে দেওয়া হয়েছে। এই আবহে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে পেশাদার খুনিরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এই আবহে আজ সকালবেলাই মধ্যমগ্রামের ঘটনাস্থে পৌঁছে যান সিআইডির তদন্তকারীকারীরা।এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা বলেছেন, ‘আমরা তদন্ত শুরু করে দিয়েছি। আমরা একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছি, যেটিকে অপরাধের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে নম্বর প্লেট বিকৃত করা হয়েছে। যে গাড়ির নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা আসলে শিলিগুড়ির একটি গাড়ির। কিন্তু আসলে এটা বিকৃত করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি কার্তুজ ও লাইভ রাউন্ড বাজেয়াপ্ত করেছি। আমরা যে তথ্য পেয়েছি, সেটা ধরে এগিয়ে চলেছি। আর এই মুহূর্তে আমি শুধু এই তথ্যগুলোই জানাতে পারি।’
