২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনৈতিক মঞ্চে পদার্পণ করেছিলেন অভিনেতা দেব। এরপর ধীরে ধীরে একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে সকলের কাছে পরিচয় পেয়েছিলেন তিনি। সিনেমার পর্দায় যেমন তিনি নিজের জাদু দেখিয়েছিলেন ঠিক তেমনই রাজ্য রাজনীতির মঞ্চেও ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন দেব। যদিও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে দাঁড়াননি তিনি তবে ভোটের আগে দেবকে দলের হয়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে সক্রিয়ভাবে।
তবে এবার দেবের একটি ভিডিয়ো খুব ভাইরাল হচ্ছে, যা বাংলার সুপারস্টার, দুঁদে রাজনীতিবিদ দেবের সুনাম নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। ভিডিয়োগুলোতে দাবি করা হয়েছে যে, দেবকে দেখে নাকি ‘চোর চোর’ মন্তব্য হয়েছে। শেষেমুখ ঢেকে ভিড় থেকে বেরোতে হয়েছে তাঁকে।
এবার প্রশ্ন এই ভিডিয়ো কি আদৌ সত্যি? একটু খুটিয়ে দেখলে বোঝা যাবে যে, দেবের এই ফুটেজটি পুরনো। নির্বাচনের আগে তিনি যখন শ্রেয়া পাণ্ডের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন তখনকার। সেটার পিছনে অনেক চিৎকার শোনা গেলেও, ‘চোর চোর’ চিৎকার স্পষ্ট নয়। বরং কাওকে ‘চল চল’ বলতে শোনা যাচ্ছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই চটেছে দেব ভক্তরা। যাতে এভাবে অভিনেতার মানহানি করা না হয়, তার বার্তা প্রায় প্রতিটা মন্তব্যেই। আবার কোনো কোনো ভক্ত দেবকে অনুরোধ করেছেন, আর যেন তিনি রাজনীতির ঘোলা জলে না নামেন।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কখনও কোনও কটু কথা বলতে শোনা যায়নি অভিনেতাকে। চিরকাল ‘সৌজন্যের রাজনীতি’ করে এসেছেন তিনি। প্রচার মঞ্চ থেকে বিরোধীদের জন্য কখনও তিনি এমন কিছু বলেননি জানিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই দেবের সঙ্গে হওয়া এই আচরণ একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ।
দেবের সিনেমাতে সেই সময়ের শাসক দল তৃণমূল থেকে ঘাসফুল বিরোধী শিবির, দুই পক্ষই সমানভাবে সুযোগ পেয়েছে। তা সে ‘রঘু ডাকাত’-এ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, সোহিনী সরকারকে কাজ দেওয়া হোক বা ‘প্রজাপতি’ সিরিজে মিঠুনের সঙ্গে কাজ। এমনকী, মিঠুনকে সিনেমায় নেওয়ায় প্রজাপতি নিয়ে কটু মন্তব্য করেছিলেন কুণাল ঘোষ। এমনকী, ছবি মুক্তি পেতে দেওয়া হয়নি নন্দনে। শুধু তাই নয়, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে দেব একাধিক ঝামেলায় জড়িয়েছেন, শুধুমাত্র টলিউডে সাম্যতা নিয়ে আসতে। ব্যান কালচারকে দূর করতে।
