মার্কিন কংগ্রেসনাল জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান চার্লস ই গ্রাসলি এবং ব়্যাঙ্কিং সদস্য রিচার্ড জে ডারবিন ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতীয় আইটি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর সিইও কে কৃতিবাসনকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। এইচ১বি ভিসা প্রোগ্রামের অপব্যবহার এবং আমেরিকান কর্মীদের ছাঁটাইয়ের মধ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছিল সেই চিঠিতে। শুধু টিসিএসকে নয়, অ্যামাজন, অ্যাপল, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট, কগনিজেন্ট, ডেলয়েট, জেপি মরগান চেজ এবং ওয়ালমার্টের মতো আরও নয়টি বড় সংস্থার সিইও-কেও সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সেনেটররা এই সংস্থাগুলিকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে বেতন সমতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং আমেরিকান কর্মীদের প্রতিস্থাপনের মতো বিষয়গুলি সহ বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। চিঠিতে দুই সেনেটর টিসিএসের সিইও কৃতি কৃতিবাসনের কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছেন এইচ১বি ভিসার অপব্যবহার নিয়ে। চিঠিতে বলা হয়েছে যে প্রযুক্তি শিল্পে ‘উদ্বেগজনক কর্মসংস্থানের প্রবণতা’ দেখা যাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে তাতে। রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতে বেকারত্বের হার যুক্তরাষ্ট্রের গড় বেকারত্বের হারের চেয়ে অনেক বেশি। এদিকে সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে ১২ হাজার কর্মচারীর ছাঁটাই করে টিসিএস। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই জ্যাকসনভিল অফিস থেকে বহু কর্মীকে ছাঁটাই করে টিসিএস। এরই সঙ্গে তারা ৫৫০৫টি এইচ১বি ভিসা প্রাপককে নিয়োগ দেয়। উল্লেখ্য, এইচ১বি ভিসা প্রোগ্রামের মাধ্যমে উচ্চ দক্ষ বিদেশি কর্মীরা তিন থেকে ছয় বছরের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে পারেন।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এইচ১বি ভিসা ব্যবহারকারী সংস্থায় টিসিএস। এই আবহে টিসিএসের প্রতি মার্কিন সেনেটরদের বার্তা, ‘আমেরিকায় যখন এত বিপুল সংখ্যক মার্কিন প্রযুক্তি কর্মী বেকার থাকেন, তখন এটি বিশ্বাস করা কঠিন যে টিসিএস যোগ্য মার্কিন কর্মী খুঁজে পাচ্ছে না’। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে টিসিএস বর্তমানে ইক্যুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি কমিশনের (ইইওসি) তদন্তের অধীন রয়েছে। টিসিএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, টিসিএস বয়স্ক আমেরিকান কর্মীদের ছাঁটাই করে দক্ষিণ এশিয়ান এইচ১বি ভিসায় থাকা কর্মীদের নিয়োগ দিয়েছে। এই বহে সেনেটর গ্রাসলি এবং ডারবিন টিসিএসকে বেশ কয়েকটি বিস্তারিত প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেছেন।

সেনেটরদের চিঠিতে থাকা প্রশ্নগুলির মধ্যে থাকা কয়েকটি মূল প্রশ্ন হল: মার্কিন প্রযুক্তি কর্মীরা যখন বেকার, তখন কেন টিসিএস বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে? সংস্থাটি কি প্রথমে আমেরিকান প্রার্থীদের সুযোগ দেয় এবং তারপরেই এইচ১বি ভিসার জন্য আবেদন করে? এইচ১বি কর্মীদের কি মার্কিন কর্মীদের সমান বেতন এবং সুবিধা দেওয়া হয়? লেভেল-১ বেতনে কতজন এইচ১বি কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে এবং এখনও কি তাঁরা একই স্তরে কাজ করছেন? টিসিএস কি সরাসরি তার এইচ১বি কর্মীদের নিয়োগ করে বা ঠিকাদার / স্টাফিং ফার্মের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ করে? ২০২৫ সালে প্রাপ্ত এইচ১বি অনুমোদনের মধ্যে কতগুলি অন্যান্য সংস্থাকে আউটসোর্স করা হয়েছিল?