TMC Bank Account and Cayman Islands। কোনও কর দিতে হয় না! সেই ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে গেল তৃণমূলের?

Spread the love

TMC Bank Account and Cayman Islands: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার মামলায় নাম উঠেছে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের নাম। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। এমব্রায়ার লিগ্যাসি ৬০০ বিমান, অগুস্তা ১০৯ গ্র্যান্ডনিউ হেলিকপ্টার কেনার জন্য ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নয়া একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৮২.৯৬ কোটি টাকা হস্তান্তর করেছিল। সেই হেলিকপ্টার কেনার জন্য ২০২৩ সালে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানের থেকে ১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কোলাটোরাল বিহীন ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

কিন্তু কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ কোথায় অবস্থিত?

ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে জেগে থাকা ছোট্ট দ্বীপপুঞ্জ হল কেম্যান। ভৌগোলিক সীমানার নিরিখে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি বা ব্রিটেনের অধীনস্থ অঞ্চল হলেও বিশ্ব অর্থনীতি এবং পর্যটন মানচিত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। মূলত তিনটি প্রধান দ্বীপ (গ্র্যান্ড কেম্যান, কেম্যান ব্র্যাক এবং লিটল কেম্যান) নিয়ে গঠিত এই দ্বীপপুঞ্জটি একদিকে যেমন নীল জলরাশি আর সাদা বালুকাময় সৈকতের জন্য বিখ্যাত, তেমনই অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আর্থিক কেন্দ্র ও ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ বা করের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত।

ভৌগোলিক অবস্থান ও পর্যটন

জ্যামাইকার উত্তর-পশ্চিমে এবং কিউবার দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জের প্রধান আকর্ষণ হল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রাজধানী জর্জ টাউন অবস্থিত গ্র্যান্ড কেম্যান দ্বীপে, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পর্যটন হাব। কলকাতা থেকে যে দ্বীপপুঞ্জ প্রায় ১৫,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

অর্থনৈতিক পরাশক্তি এবং ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’

এক লাখেরও কম মানুষের এই দ্বীপপুঞ্জ কীভাবে বিশ্বের অন্যতম ধনী অঞ্চলে পরিণত হলো, তার উত্তর লুকিয়ে আছে কর ব্যবস্থায়। কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে কোনও আয়কর, কর্পোরেট কর, বা সম্পত্তি কর দিতে হয় না। এই শিথিল কর ব্যবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে হাজার-হাজার বহুজাতিক সংস্থা, ব্যাঙ্ক-সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজের মূল অফিস বা তহবিল এখানে নথিভুক্ত করে রেখেছে।

একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কাগজে-কলমে এখানে যতসংখ্যক মানুষের বসবাস, তার চেয়ে অনেক বেশি কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক মহল থেকে বিভিন্ন সময় কর ফাঁকি রোধে চাপ দেওয়া হয়েছে, তবুও লাভের লাভ কিছু হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *