TMC Death Certificate: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ লিখে দিলেন বাম চিকিৎসক নেতা ফুয়াদ হালিম। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বাম নেতা বলেন, ‘এতদ্বারা বলা হচ্ছে যে তৃণমূল কংগ্রেস (বয়স ২৮ বছর, ঠিকানা: কেয়ার-অফ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কালীঘাট এবং অস্থায়ী ঠিকানা: কেয়ার-অফ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তিনিকেতন) মৃত। আমি রোগীকে যত্ন সহকারে ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখেছি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে এপাং, ওপাং, ঝাপাংয়ের কারণে গেরুয়া রঙের আঘাতজনিত রক্তক্ষরণে তার (তৃণমূল কংগ্রেস) মৃত্যু হয়েছে।’
ঋতব্রতের চিঠিতে ৫৯ বিধায়কের স্বাক্ষর
আর তিনি সেই ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ লিখেছেন, বিধানসভায় তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের চিঠি জমা পড়ার পরে। ‘মহারাষ্ট্র মডেলে’ (শিবসেনা ভেঙে একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা গঠন) ঋতব্রতকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানভার বিরোধী দলনেতা চেয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়ক। ঋতব্রত-সহ ওই চিঠিতে ৫৯ জন বিধায়ক স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে কোন কোন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে?
সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খান, অরূপ রায়, গুলশান মল্লিক, শিউলি সাহা, প্রাক্তন মন্ত্রী নিয়ামত শেখ, কাজল শেখ, গোলাম রব্বানির মতো বিধায়করা। যাঁরা বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতের নাম বেছে নিয়েছেন। মুখ্যসচেতক হিসেবে আখরুজ্জামানের নাম দেওয়া হয়েছে। উপ-দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সন্দীপন সাহা, শিউলি, জাভেদ এবং সাবিনার নাম। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই চিঠিতে ‘সভানেত্রী’ হিসেবে মমতার নামই উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃণমূল থেকে ‘নব্য’ তৃণমূলের জন্ম হল
যদিও দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ইতিমধ্যে মমতার তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে। ঋতব্রতকে সরাসরি নিশানা করেছেন মমতাও। কিন্তু এখন তৃণমূলের উপর থেকে মমতার রাশ উঠে গিয়েছে পুরোপুরি। এবার বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জেতে তৃণমূল। কিন্তু তারপর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যে প্রস্তাব পাঠানো হয়, তাতে সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পড়ে। সেই জাল সইকাণ্ডের পরই তৃণমূলের ফাটল চওড়া হয়ে যায়। আর আজ তৃণমূল ভেঙে ‘নব্য’ তৃণমূলের জন্ম হল।
