সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে এখন তুমুল শোরগোল। দুই জনপ্রিয় টলি-কন্যা তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অনন্যা গুহ এবং অলকানন্দা গুহ রায়ের বাবার বিরুদ্ধে এক পথকুকুরকে গাড়ি চাপা দিয়ে পঙ্গু করে দেওয়ার এবং চিকিৎসার খরচ না দিয়ে গা ঢাকা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে এই একতরফা ভাইরাল পোস্টের পর আর চুপ করে থাকতে রাজি নন অনন্যা-অলকানন্দা। পাল্টা বিস্ফোরক দাবি নিয়ে এবার সোজা থানার দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা।
কী সেই ভাইরাল অভিযোগ? ‘সেলিব্রিটি বলে কি সাত খুন মাফ?’
শাশ্বতী মল্লিক নামের এক স্থানীয় কেয়ারগিভারের দাবি, গত ৯ মে উত্তর কলকাতার ফুটপাতে শুয়ে থাকা ‘রকি’ নামের একটি পথকুকুরের ওপর দিয়ে চারচাকা গাড়ি চালিয়ে দেন অনন্য়ার বাবা। এর ফলে কুকুরটির শিরদাঁড়া ভেঙে যায়। অভিযোগকারিণীর মতে, প্রথমে দুদিন চিকিৎসার সামান্য খরচ দিলেও, পরে ওনারা আর কোনো টাকা দিতে চাননি এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ‘সেলিব্রিটি বলেই কি ওনাদের সাত খুন মাফ? একটা অবলা পশুর জীবনের কি কোনও দাম নেই?’— এই প্রশ্ন তুলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনন্যা, অলকানন্দা ও ওনাদের বাবার ছবি দিয়ে পোস্ট শেয়ার করার ডাক দেওয়া হয়।
‘সব মিথ্যে, আমরা ১১ হাজার টাকা খরচ করেছি!’ পাল্টা তোপ অনন্যার
সেলিব্রিটি তকমার ফায়দা তোলার তত্ত্ব সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে এবার এক্সক্লুসিভলি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় মুখ খুললেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ অনন্যা গুহ। অভিনেত্রী সাফ জানান, একতরফা গল্প শুনে ওঁনাদের অপরাধী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনন্যা জানান, উত্তর কলকাতার অত্যন্ত সরু গলিতে ওনাদের বাড়ি, যেখানে গত ৩৫ বছর ধরে ওনাদের বাবা রাস্তার ধারেই গাড়ি পার্ক করেন কারণ সেখানে কোনো গ্যারেজ নেই। সেদিন দুর্ঘটনাবশত রকি গাড়ির নিচে চলে আসে, অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য তিনি অনুতপ্ত। পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই ওনাদের বাবা গাড়ি থেকে নেমে আসেন এবং পাড়ার লোকেদের সাথে নিয়ে রকির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
অনন্যা বলেন, ‘আমরা পশুপ্রেমী। আমার দিদির বাড়িতে একটা পথকুকুর রয়েছে। সুকান্তরও সারমেয় ছিল সবাই জানে। রকির জন্য বাবা-মা আন্তরিকভাবে সবটা করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে শিয়ালদহের কাছে এনটালির এক ভেটেরিনারি ক্লিনিকে রকিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসা ও ওষুধের যাবতীয় খরচ বাবাই বহন করেন’। অনন্য়ার দাবি, রকি আঘাত পেলেও ওর শিরদাঁড়া ভাঙেনি, তার প্রমাণ রয়েছে। যদিও শাশ্বতী দেবী মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁদের হয়রান করছেন। অনন্যা বলেন, রকি যাতে কষ্ট না পায়, তার জন্য ওনার দিদি অলকানন্দা ওয়াটার বেড, স্যালাইন ও দামি ওষুধের বন্দোবস্ত করেন। এখনও পর্যন্ত ৪ দিনে প্রায় ১১ হাজার টাকা ওনারা খরচ করেছেন, যার বিলের প্রমাণও ওনাদের কাছে রয়েছে।

নিরামিষ খাবারের অজুহাতে অ্যাম্বুল্যান্স ফেরত! ৩০ হাজারের ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ
গল্পে আসল টুইস্ট বা মোড় ঘোরে এরপরই। অনন্যার দাবি, ওনারা রকিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোনারপুরের নামী ‘ছায়াপথ অ্যানিম্যাল হসপিটাল’-এ পাঠানোর জন্য নিজে থেকে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাও করেছিলেন। অ্যাম্বুল্যান্স ওনাদের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েও ছিল। কিন্তু ওই স্থানীয় কেয়ারগিভার মহিলা রকিকে সেখানে পাঠাতে বাধা দেন, কারণ ওঁর অদ্ভুত দাবি— ওই হাসপাতালে নাকি ‘নিরামিষ খাবার’ দেওয়া হয়!