Delhi restaurant fire: দিল্লিতে বিধ্বংসী আগুন। বুধবার সকলে দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার লেমন গ্রিন নামে একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ধ্রুত সেখানে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসেস জানিয়েছে, সকাল পৌনে দশটা নাগাদ আগুন লাগে। ইতিমধ্যে মোট ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সবাইকে সেন্ট্রালাইজড অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ট্রমা সার্ভিসেস (ক্যাটস)-এর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আগুন কেন লাগল তা এখনও জানা যায়নি।
দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন সকালে হঠাৎ আগুন লাগে ওই রেস্তোরাঁয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন নেহরু প্লেস (এনআরএন) ফায়ার স্টেশনের ডিভিশনাল অফিসার (ডিও) রবীন্দ্রও। দিল্লির দমকল বিভাগের এক আধিকারিক বলেন,’২টি ওয়াটার টেন্ডার, ১টি ওয়াটার বাউসার, একটি কুইক রেসপন্স গাড়ি এবং অন্যান্য দমকলে ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কাজ করছে।’ প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ওই বহুতলের বেসমেন্ট থেকে ১১ জনকে উদ্ধার করেছেন দমকল কর্মীরা। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিরা কেমন আছেন, তা জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। মনে করা হচ্ছে, ওই পাঁচতলা বাড়িটিতে যখন আগুন লেগে যায় তখন সেখানে ৪০ জন ছিলেন। ওই বহুতলের ভেতরে এখনও বেশ কয়েকজন আটকে রয়েছেন বলে খবর। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দমকল কর্মীরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
হউজ রানিতে অবস্থিত এক সরু গলির ভিতরে অবস্থিত ওই বাড়িটির বেসমেন্টে রয়েছে রেস্তোরাঁটি। সেখানে বিদেশি পর্যটকরা নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করেন বলে জানা গিয়েছে।ফলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পরে গোটা ভবন ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন জানালা থেকে ঝাঁপ দেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার কাজে হাত লাগান। তড়িঘড়ি আগুনে আটকে পড়া মানুষদের প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের বাড়ি থেকে গদি ও ম্যাট্রেস এনে রাস্তায় বিছিয়ে দেন। তাতে জানলা দিয়ে ঝাঁপ দিয়ে পড়া অনেকেই বড়সড় আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। সরু গলি ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রথমদিকে দমকলের কাজে সমস্যা হয়। অন্যদিকে, এই ঘটনায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং আহত ও মৃতদের পরিবারের জন্য সবরকম সহায়তা করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন,’মালভিয়া নগরে বীভৎস আগুনের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাণহানির খবরে আমি শোকার্ত। পরিজনহারাদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক, এই প্রার্থনা করছি।’ তিনি জানিয়েছেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরই দমকল, দিল্লি পুলিশ, ডিডিএমএ, ক্যাটস অ্যাম্বুল্যান্স-সহ অন্যান্য দরুরি পরিষেবা টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
