UPSC Civil Services Success Story: প্রতি বছর ভারতের লাখ-লাখ তরুণ-তরুণী চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে দিন-রাত এক করে দেন। কোনও বিলাসবহুল গাড়ি বা সরকারি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং দেশ বা সমাজের কাজের জন্য তাঁরা বড় সুযোগও ছেড়ে দেন। বছরের পর বছর ধরে চলা এই কঠোর তপস্যার ফল যখন সামনে আসে, তখন তা কেবল একটি পরীক্ষার রেজাল্ট থাকে না, হয়ে ওঠে এক মহাকাব্যিক সাফল্যের রূপকথা। ২০২৫ সালের ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিএসসি) সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার মেধাতালিকায় দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন আকাংশ ধুল। নিজের স্বপ্নের জন্য মানুষ কত বড় সুযোগ অনায়াসে ছেড়ে দিতে পারেন, তারই প্রমাণ হলেন তিনি।
SRCC-র লাখ টাকার প্লেসমেন্টকে ‘না’: লক্ষ্য ছিল অর্জুন পাখির চোখ
আকাংশের জন্ম হরিয়ানার রোহতকে হলেও পরবর্তীকালে তাঁর পরিবার পঞ্চকুলায় চলে আসে। চণ্ডীগড়ের দুটি ভিন্ন স্কুল থেকে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি দিল্লির কলেজ শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সে ভর্তি হন। সেখান থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে বি.কম অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন।
লাখ-লাখ টাকার চাকরির সুযোগ ছিল
অনেকেই ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে বসাটাই ছিল দস্তুর। তাঁর সামনেও সুযোগ ছিল নামী কর্পোরেট সংস্থায় লাখ-লাখ টাকার প্যাকেজ নিয়ে একটি আরামদায়ক ও বিলাসবহুল জীবন বেছে নেওয়ার। কিন্তু আকাংশের চোখে তখন ঘুরপাক খাচ্ছিল ছোটবেলা থেকে লালন করা সিভিল সার্ভিসের স্বপ্ন। প্লেসমেন্টে না বসে সম্পূর্ণ ঝুঁকি নিয়ে তিনি নিজেকে সঁপে দেন দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসির প্রস্তুতির ময়দানে।
৩৪২ তম র্যাঙ্ক থেকে একলাফে সরাসরি তৃতীয় স্থান
ইউপিএসসির এই দীর্ঘ পথচলা আকাংশের জন্য রাতারাতি আসেনি। এই পরীক্ষা শুধু মেধার নয়, বরং প্রার্থীর ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার এক চরম অগ্নিপরীক্ষা। আকাংশ ২০২১ সাল থেকে এই মহাযজ্ঞের প্রস্তুতি শুরু করেন। এর আগে ২০২৩ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তিনি সফল হয়েছিলেন। সেই বছর তাঁর র্যাঙ্ক ছিল ৩৪২।

সাধারণত এত দীর্ঘ লড়াই এবং ৩৪২ তম র্যাঙ্ক পাওয়ার পর অনেকেই সন্তুষ্ট হয়ে যান বা মানসিক ক্লান্তিতে পড়াশোনা থিতিয়ে পড়ে। কিন্তু আকাংশ সাধারণদের দলে ছিলেন না। তিনি দমে না গিয়ে নিজের রণকৌশলকে আরও ধারালো করে তোলেন এবং দ্বিগুণ উদ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যান। আর ঠিক এই জেদের ওপর ভর করেই ২০২৫ সালের পরীক্ষায় সরাসরি সর্বভারতীয় স্তরে তৃৃতীয় স্থান অর্জন করেন।