মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের শিবিরের প্রধান পরামর্শদাতা হওয়ার প্রস্তাব দিতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক দাবি করেন, তৃণমূলের ৬০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৮ জন তাঁদের সঙ্গে আছেন। আরও দু’জনের সমর্থন রয়েছে তাঁদের সঙ্গে। অর্থাৎ ৬০ জন বিধায়ক একইসুরে কথা বলছেন। তাঁরাই বিধানসভায় বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন,পরিষদীয় দলের প্রধান পরামর্শদাতা হওয়ার জন্য মমতাকে আর্জি জানানো হবে। তবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের পরিষদীয় দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন ঋতব্রত।
‘যদি না দিদি মেরে সরিয়ে দেন…..’, বিস্ফোরক ‘নব্য তৃণমূলের’ বিধায়কের
আর ঋতব্রতের সাংবাদিক বৈঠকের ঠিক আগেই ‘নব্য তৃণমূলের’ অন্যতম এক বিধায়ক বলেন, ‘আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ভয়ে বলতে পারিনি। বললেই আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হত।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দিদির সৈনিক ছিলাম, দিদির সৈনিক আছি, দিদির সৈনিক থাকব, যদি না দিদি লাথি মেরে সরিয়ে দেন।’
কারা কারা সই করেছেন ঋতব্রতদের চিঠিতে?
সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খান, অরূপ রায়, গুলশান মল্লিক, শিউলি সাহা, প্রাক্তন মন্ত্রী নিয়ামত শেখ, কাজল শেখ, গোলাম রব্বানির মতো বিধায়করা। যাঁরা বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতের নাম বেছে নিয়েছেন। মুখ্যসচেতক হিসেবে আখরুজ্জামানের নাম দেওয়া হয়েছে। উপ-দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহা, জাভেদ খান এবং সাবিনা ইয়াসমিনের নাম। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই চিঠিতে ‘সভানেত্রী’ হিসেবে মমতার নামই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে কী কী বললেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত?
১) ঋতব্রত: অষ্টাদশ বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই।
২) ঋতব্রত: আমরা দায়িত্বশীল বিরোধীর ভূমিকা পালন করব।
৩) ঋতব্রত: বাংলার মানুষের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই অভিষেকের। যদি সম্পর্ক থাকত, তাহলে ২৬ দিন লুকিয়ে থাকতেন না। তারপর চোরেদের মতো মার খেতেন না।
৪) ঋতব্রত: অভিষেকের নেতৃত্বে সং আছে, গঠন নেই।
