TMC head quarters: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াই এবার এক নাটকীয় মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। দিল্লি থেকে ফিরেই আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সোজা ইএম বাইপাসের তৃণমূল ভবন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। ইতিমধ্যে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে চুক্তিপত্র হয়ে গিয়েছে। ওই অফিসেই তাঁরা এখন থেকে বসবেন। এমনটাই জানিয়েছেন তাঁরা। কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান জানিয়েছেন, এই কার্যালয়ের সঙ্গে তৃণমূলের আবেগ জড়িয়ে আছে। মালিকের সঙ্গে চুক্তিপত্র হয়েছে। এই অফিস থেকেই কাজ হবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও দলীয় কোষাগার কাদের জিম্মায় থাকবে? তাই নিয়ে কার্যত দুই তরফে দড়ি টানাটানি চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুরেই দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত-সহ অন্যান্যরা। সেখানে ঋতব্রত শিবির সাফ দাবি করে এসেছে, ঘাসফুল শিবিরের আসল নিয়ন্ত্রক আসলে তাঁরাই। দল বা প্রতীক নিয়ে কোনও ধোঁয়াশাই নেই। এর পর শুক্রবার দিল্লি থেকে ফিরেই বাইপাসের ধারে তৃণমূলের আদি কার্যালয় পৌঁছে গেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম-সহ একাধিক নেতা। সেখানে বসতেও দেখা গেল তাঁদের। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘আমরাই তৃণমূল, এটাই আমাদের কার্যালয়।’ আগামী কাল, শনিবার থেকেই এই কার্যালয়ে কাজ শুরু হয়ে যাবে। ঋতব্রত শিবির সূত্রে সেই কথা জানা গিয়েছে।
শাসক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে থেকেই বাইপাসের ধারের বাড়িই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কার্যালয়। ওই অফিসেই আনাগোনা ছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সর্বদা গমগম করত ওই বাড়ি। বাড়ির মালিক মন্টু সাহা এবং তাঁর ছেলে অমিত সাহার অভিযোগ ছিল, দিনের পর দিন বাড়ি আটকে রেখেছে তৃণমূল। এমনকী তাঁদের ফোনটাও কেউ ধরছে না। বাড়ি ফেরত না পেলে তাঁরা আইনি পথে হাঁটবেন, সেই কথাও জানিয়েছিলেন। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট শিবির’ চাপে পড়ল, তেমনই মনে করে ওয়াকিবহাল মহল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋতব্রত শিবিরের এই পদক্ষেপকে দলীয় শক্তি প্রদর্শনের অংশ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। যদিও এই ঘটনায় ‘কালীঘাট শিবির’-এর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
