লোকসভা ও রাজ্যসভায় একের পর এক সাংসদের দলত্যাগে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সংকট ঘনীভূত হয়েছে, তখন দলের জন্য আরও বড় ধাক্কার খবর সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায় বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পথে হাঁটছেন। জানা গিয়েছে, তিনি ‘এনডিএ সমর্থক ব্লক’-এর পক্ষে সই করতে পারেন। এদিকে আজকে এক রিপোর্টে দাবি করা হয়, তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহীর যে স্বাক্ষর এখনও সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে সই ছিল যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষেরও।
মঙ্গলবার বিকেলে স্বামী নির্বেদ রায়, ছেলে ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি গিয়েছেন মালা রায়। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ না হলে বুধবার তিনি বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষে সই করতে পারেন। এই সম্ভাবনাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দলের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, পার্থ ভৌমিক ও ইউসুফ পাঠানের মতো একাধিক সাংসদের নাম বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে জড়িয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করেছিলেন, দক্ষিণ কলকাতার প্রবীণ নেত্রী মালা রায় অন্তত মূল শিবিরেই থাকবেন। কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং দক্ষিণ কলকাতার সংগঠনের উপর তাঁর প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তিনিও যদি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন, তবে তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদ্রোহী শিবির সূত্রে খবর, মালা রায়ের সম্ভাব্য যোগদানে লোকসভায় তাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। সোমবার রাতে ১৬ জন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার উদ্দেশে লেখা চিঠিতে সই করেছেন বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে সায়নী ঘোষের নামও সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ার জল্পনা ছড়ায়। এখন মালা রায় ও মিতালি বাগের নাম সামনে আসায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংখ্যা ২০-এর গণ্ডি পেরোতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে এই কয়েকদিন আগেই সংগঠন ভেঙে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে নয়া তালিকায় সায়নী ঘোষকে তৃণমূলের যুব সংগঠনের সভানেত্রী হিসেবেই রেখে দেন মমতা। তবে সেই সায়নীও নাকি বিদ্রোহী শিবিরেই আছেন। ভোটের পরও সায়নীকে কালীঘাটে দেখা গিয়েছে। তিনি অভিষেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত।
