দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে সরকারি ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ এবং কালোবাজারির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের চার পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জন্য পাঠানো সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ না করে গোপনে একটি গোডাউনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হলেন নারায়ণীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য অশোক সাহা, রথীন সাহা, চন্দ্রিমা ঘোষ এবং শ্রীমা ঘোষ। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ত্রাণসামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত রাখা এবং দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি বন্যা ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে জয়নগরের বিস্তীর্ণ এলাকার বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই পরিস্থিতিতে দুর্গতদের জন্য সরকার বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, চাল, ডাল, ত্রিপল, শুকনো খাবার এবং জরুরি সামগ্রী দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেই সামগ্রী মানুষের হাতে পৌঁছনোর বদলে গোপনে একটি গোডাউনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব জয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ নারায়ণীতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালায়। অভিযানের সময় একটি নির্দিষ্ট গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে চাল, ডাল, ত্রিপল, শুকনো খাবার এবং ওষুধপত্র ছিল। প্রাথমিক তদন্তে এই সামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত রাখার প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি পুলিশের।

ঘটনার পর বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সাহায্য লুকিয়ে রেখে কালোবাজারির চেষ্টা করা হচ্ছিল। অন্যদিকে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের স্থানীয় বা জেলা নেতৃত্বের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সমস্ত ত্রাণসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করে হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কোনও বড় চক্র কাজ করছিল কি না এবং সরকারি ত্রাণের হিসাবের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মিল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।