Trisha Saha’s death। অফিসেই প্রেম! সহকর্মীর সঙ্গে লিভ-ইন! ‘ফলোয়ার্স’ ঈর্ষাতেই নিউটাউনে খুন নেটপ্রভাবী প্রেমিকা?

Spread the love

Trisha Saha’s death: সৌভিক রায় ও তৃষা সাহার সম্পর্কের মাঝে এসেছিল তৃতীয় কেউ? সেই নিয়েই দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য? নাকি সম্পর্কের এমন পরিণতি, যা আত্মসম্মানে আঘাত হানে, যার জেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হল। কী এমন হয়েছিল দু’জনের মধ্যে, যার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন দু’জনে, জানার চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্তকারীরা।

সল্টলেকের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তৃষা। এই অফিসেই সৌভিক রায় নামের যুবক কর্মরত ছিলেন। তৃষা ও সৌভিক গত কয়েক মাসের সহকর্মী ছিলেন। জানা যাচ্ছে, অফিসেই প্রেমের শুরু। সহকর্মী সৌভিক রায়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তৃষা। তারপর সহকর্মী সৌভিকের সঙ্গেই লিভ-ইন করতে শুরু করেন। ৪ মাস ধরে লিভ-ইন করছিলেন সৌভিক-তৃষা। সৌভিক-তৃষা দু’জনে যে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন, তা জানতেন আবাসনের মালিক থেকে দুই পরিবারের সকলেই। কারও পরিবার থেকে বাধা আসেনি। রান্নাবান্না, খাওয়াদাওয়া, অফিস, আড্ডা-সবই একসঙ্গেই চলত। তার পর কী এমন ঘটল যে, ওই তরুণীর মৃত্যু এবং তাঁর সঙ্গীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা প্রকাশ্যে এল? প্রেমিকাকে খুন করে প্রেমিক আত্মঘাতী হলেন, নাকি প্রেমিকা আত্মহত্যা করেছেন দেখে প্রেমিকও আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে নিউটাউন কাণ্ডে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্ত এগোচ্ছে সেই সূত্র ধরেই।

তৃষার বয়স ছিল ২৫। শিক্ষিতা তন্বী। নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন অল্প বয়সে। চাকরি করতেন বেসরকারি ক্ষেত্রে। ব্যারাকপুরের বাড়ি থেকে কর্মক্ষেত্রে দৈনন্দিন যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছিল তাঁর। তাই নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়ায় একটি আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে সেখানে একা থাকতেন না। প্রেমিক সৌভিকও ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। কিছু দিন প্রেম করার পর একত্রবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। ফ্ল্যাটের মালিক সুদাম মাইতি জানান, ‘চার-পাঁচ মাস ধরে ফ্ল্যাটে থাকছিলেন দু’জনে। মাসে প্রায় ১১ হাজার টাকা ভাড়া দিতেন। তাঁদের মধ্যে কোনও অশান্তি, ঝগড়া বা বিবাদের কথা কখনও শুনিনি। আবাসনের অন্য বাসিন্দারা কখনও বলেনি।’ তাঁর দাবি, ঘটনার দিন প্রথমে সৌভিক তাঁকে ফোন করে জানান, ‘তৃষা আত্মহত্যা করেছে।’ খবর পেয়েই তিনি দ্রুত ফ্ল্যাটের দরজার সামনে পৌঁছন। বারবার দরজায় কড়া নাড়লেও কোনও সাড়া মেলেনি। একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি। কিছুক্ষণ পর সৌভিক ফের ফোন করলে তিনি আবার দরজার সামনে যান। দরজা খুলতেই তিনি দেখতে পান রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সৌভিক এবং ঘরের ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন তৃষা। পরিস্থিতি বুঝে উঠতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন তিনি।

রবিবার রাতেই পুলিশ যায় নিউটাউনের ওই আবাসনে। তারা তৃষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। রক্তাক্ত অবস্থায় পায় সৌভিককেও। তাঁর হাতের শিরা কাটা ছিল। বেশি কথা বলার মতো শারীরিক পরিস্থিতি ছিল না ওই যুবকের। তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার চুক্তিপত্র-সহ সমস্ত নথি খতিয়ে দেখছে তারা। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌভিকের জ্ঞান ফিরলে এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করা গেলে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তৃষার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবারই হয়তো তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে দুপুর পর্যন্ত তৃষা বা সৌভিক, কারও পরিবার থেকে পুলিশে কোনও অভিযোগ করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *