মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা হল গতকাল। সেই কথোপকথনের পরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প একটি পোস্টে দাবি করেন, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে বৈঠক হবে বুদাপেস্টে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউজে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠকের কথাও জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই বৈঠকে দু’জনের মধ্যে অস্ত্র চুক্তি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং আমরা একটি বৈঠক করব। সেই বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত করা যেতে পারে, সেই অবস্থান সম্পর্কে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। আমরা হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে মিলিত হব। দেখা যাক, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে পারি কি না।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ খুবই ইতিবাচক ছিল। তিনি বলেন, মধ্য এশিয়ায় সাফল্যের পর ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এটি সাহায্য করবে। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য নিয়েও পুতিনের সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে আলাস্কায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। তবে আলোচনায় কোনও ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন করে যুক্তরাষ্ট্রে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। সেবার জেলেনস্কির প্রতি তাঁর আচরণ ছিল নরম। পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইউরি উশাকভ বলেছেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথোপকথনের সময় টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, ইউক্রেনকে এই মিসাইল দেওয়ার কথা আমেরিকার। এই আবহে পুতিন নাকি ট্রাম্পকে বলেছেন, ইউক্রেনকে এই ক্ষেপণাস্ত্র পাঠালে রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তির লঙ্ঘন। তিনি জোর দিয়ে আরও বলেছিলেন যে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি যুদ্ধক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করবে না। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছে, এতে রাশিয়া এবং আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। উশাকভ বলেন, পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
