Union Ministers Bungalow Repair: দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বাসভবন মেরামতি এবং সাজসজ্জার জন্য স্রেফ এক বছরেই ৯২.৩৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এমনই তথ্য আরটিআইয়ের (তথ্য জানার অধিকার) মাধ্যমে উঠে এসেছে বলে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আর দিল্লির লুটিয়েন্স জোনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বাসভবন সংস্কারে বিপুল পরিমান সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। তাদের দাবি, বিলাসবহুল বাংলোর পেছনে এই বিপুল অর্থ অপচয় না করে তা সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে ব্যবহার করা উচিত ছিল।
পিটিআই (PTI)-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এই আক্রমণ শানিয়েছে সিজেপি। পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে লুটিয়েন্স দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বাসভবন সংস্কারের জন্য রেকর্ড ৯২.৩৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যা ২০২৪-১৫ অর্থবর্ষের নিরিখে তিন গুণেরও বেশি। সেই সময় খরচের অঙ্কটা ছিল ২৭.৪৭ কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ সিজেপি লিখেছে, ‘আপনাদের বিলাসবহুল বাসভবন মেরামত করা বন্ধ করুন, এবং স্কুলগুলোর দিকে নজর দিন! ৯২ কোটি টাকা দিয়ে ১০টি নতুন বিশ্বমানের সরকারি স্কুল তৈরি করা যেত। টাকা আছে, কিন্তু সরকারি স্কুলের জন্য তা ব্যবহার করার সদিচ্ছা নেই।’
একটি আরটিআই (RTI) তথ্য উদ্ধৃত করে সিজেপি দাবি করেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন সংস্কারে ব্যয় হয় ১৩৩.৯ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা এবং ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে খরচ হয়েছে ১৭৪.৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত ১২ বছরে এই খাতে মোট সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪৭.৬৮ কোটি টাকা।
সরকারি স্কুলের পরিকাঠামোগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন জায়গায় সরকারি স্কুল পরিদর্শনে যাচ্ছেন সিজেপি-র নেতৃত্ব ও স্বেচ্ছাসেবকরা। এই বিষয়ে একাধিক পোস্ট করে সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু গ্রামের সরকারি স্কুলে সুযোগ-সুবিধার উন্নতি ঘটাতে কেন পিএম কেয়ার্স ফান্ড (PM CARES Fund) ব্যবহার করা হচ্ছে না, সম্প্রতি সেই প্রশ্ন তুলেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একটি রিপোর্টে দেখা গেছে যে, ২০২৪-২০২৫ সালে এই তহবিলের মূল অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওয় অভিজিৎ বলেছেন, একটি রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে পিএম কেয়ার্স ফান্ড-এর প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে না। আদৌ এটার ব্যবহার হচ্ছে না।

অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে তিনি গ্রামের একাধিক স্কুলে ঘুরেছেন, সেখানে তিনি স্কুলগুলির ‘খুবই খারাপ’ অবস্থা লক্ষ্য করেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চারা পানীয় জল-সহ ন্যূনতম সুযোগ পেতে সমস্যায় পড়ছে। অভিজিতের কথায়, ‘স্কুলগুলিতে খাবার জল পেতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাহলে আমরা কেন এই অর্থ ওইসব শিশুর স্কুলের জন্য ব্যবহার করছি না ? কেন এই অর্থ নতুন স্কুল নির্মাণের কাজে লাগানো হচ্ছে না ?’ দীপকে জানান, কর্তৃপক্ষ তাঁকে বলেছেন যে তহবিলের অভাবে বেশ কয়েকটি স্কুলে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ‘একদিকে বলা হচ্ছে যে স্কুলগুলির জন্য কোনও তহবিল নেই, আর অন্যদিকে ‘পিএম কেয়ারস’ (PM CARES) তহবিলে ৮,৫০০ কোটি টাকা পড়ে আছে।’