UPI payments New Rules: বিনামূল্যে লেনদেনের দিন কী তবে শেষ হতে চলল? ভারতের ডিজিটাল লেনদেনের প্রধান হাতিয়ার ইউপিআই। এবার ইউপিআই পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে কেন্দ্র। সম্প্রতি সংসদে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’-এর সংশোধনী পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এটি আইনি ছাড়পত্র পেলে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই লেনদেনের ওপর ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ বা ‘এমডিআর’ নামে এক ধরনের প্রসেসিং ফি বসাতে পারবে সরকার। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না হলেও, নতুন ফি চালু হলে এর আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত কার ওপর চাপবে, তা বলা এখনই ‘বড্ড তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে’ বলে মন্তব্য করেছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে আরবিআই গভর্নর জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রস্তাব এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এই মুহূর্তে এটি নিয়ে কোনও আগাম সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা উপসংহার টানা ঠিক হবে না। প্রস্তাবিত নীতি পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এখনও সংশোধনী চূড়ান্ত করার কাজ চালাচ্ছে এবং বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। তাঁর কথায়, এখনই এই বিষয়ে মন্তব্য করা খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। সরকার এখনও প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে কাজ করছে। এর খরচ তো কাউকে না কাউকে বহন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ডিজিটাল পেমেন্টকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী, সুরক্ষিত এবং টেকসই করে তোলাই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রধান অগ্রাধিকার।
আগামী দিনে ইউপিআই লেনদেনের জন্য কী সাধারণ গ্রাহকদেরও পকেট থেকে টাকা গুণতে হতে পারে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে গভর্নর ব্যাখ্যা করেন যে লেনদেন ফি হিসেবে আলাদা করে দেখানো না হলেও, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গ্রাহকরা ইতিমধ্যেই কোনও না কোনও উপায়ে পেমেন্ট সিস্টেমগুলোর খরচ বহন করছেন। তবে ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ (এমডিআর) চালু হলে গ্রাহকদের কাছ থেকে সরাসরি কোনও সার্ভিস চার্জ নেওয়া হবে কিনা-সে বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে কোনও মন্তব্য করেননি। বরং নতুন কোনও চার্জ আরোপিত হলে সেই খরচের বোঝা কীভাবে ভাগ করা হবে, তা নিয়ে এই মুহূর্তে মন্তব্য করা অনেকটাই আগাম ও অপ্রাসঙ্গিক বলে পুনরায় জোর দেন তিনি।
কী কী প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে?
যেমন, বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে, ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের হলে ০.৩ থেকে ০.৫ শতাংশ এমডিআর বসানো হতে পারে। যে সব ব্যবসায়ীর বার্ষিক বিক্রি দেড় কোটি টাকার বেশি, মূলত তাদের ওপরই এই ফি চাপানোর পরিকল্পনা চলছে। ছোট ছোট দোকানের এখনই চিন্তার কারণ নেই। পাড়ার মোড়ের ছোট দোকান বা খুচরো বিক্রেতাদের ওপর যাতে কোনও বাড়তি চাপ না পড়ে, সে দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।জানা গিয়েছে, সাধারণ গ্রাহকদের এই ফি দিতে হবে না। তাদের জন্য পরিষেবা আগের মতোই বিনামূল্যে থাকছে। বর্তমানে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে কেনাকাটা করলে ব্যবসায়ীদের ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত ফি দিতে হয়। ইউপিআই এত দিন এই চার্জের আওতামুক্ত ছিল। কিন্তু পেমেন্ট সংস্থাগুলির দাবি, বিনামূল্যে পরিষেবা দিতে গিয়ে নতুন প্রযুক্তি আনা বা সব মিলিয়ে খরচ তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেন সংখ্যার দিক থেকে মাত্র ৪ শতাংশ হলেও, টাকার অঙ্কের হিসাবে এটি মোট ইউপিআই লেনদেনের প্রায় ৬৭ শতাংশ। এই অংশে ফি বসালে পেমেন্ট সংস্থাগুলির ঝুলিতে বছরে প্রায় ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ কোটি টাকার বাড়তি আয় আসতে পারে।

তবে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। পুরোটাই এখন প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। ফি-র হার কত হবে বা আদৌ এই নিয়ম চালু হবে কি না- তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে আপাতত বিনামূল্যে ইউপিআই ব্যবহারে কোনও বাধা থাকছে না।