UPSC Civil Services Success Story: উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। সেই ছেলেই আজ আইপিএস অফিসার। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা ক্র্যাক করে আইপিএস অফিসার হন মহারাষ্ট্রের নাসিকের উমেশ গণপত খণ্ডবাহাল। তিনি আবার ২০১৫ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অফিসার। ছিলেন জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপারও। আর কীভাবে সেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেন তিনি?
উচ্চমাধ্যমিকে ফেল, পড়াশোনা বন্ধ ২ বছর
উমেশ নাসিকের দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। ইংরেজিতে মাত্র ২১ নম্বর পেয়েছিলেন। আর সেই ব্যর্থতা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরীক্ষায় ফেল করার পর উমেশের প্রথাগত পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে দু’বেলা পেট চালানোই দায় হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে বাবার ডেয়ারি ব্যবসায় সাহায্য করতে শুরু করেছিলেন। প্রতিদিন নিজের গ্রাম থেকে নাসিক শহরে গিয়ে বাড়ি বাড়ি দুধ বিক্রি করতেন। কখনও-কখনও দিনমজুরের কাজও করতে হয়েছে তাঁকে। প্রায় দু’বছর পড়াশোনা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থেকে এভাবেই দিন কেটেছিল উমেশের।
দুধ বিক্রি করতে যাওয়ার পথেই একদিন একটি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে উমেশ জানতে পেরেছিলেন। সেখান থেকেই মনে আবার পড়াশোনা শুরু করার ইচ্ছা জেগে উঠেছিল। ২০০৫ সালে ওপেন স্কুলিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। এবার সাফল্যের সঙ্গে পাশ করে যান। নাসিকের কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং পরবর্তীতে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তৃতীয় অ্যাটেম্পটে বাজিমাত করেন উমেশ
পরবর্তীতে ২০১২ সালে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দিল্লিতে চলে গিয়েছিলেন উমেশ। প্রথম দুটি অ্যাটেম্পটে কাঙ্খিত সাফল্য না মিললেও ভেঙে পড়েননি। অবশেষে ২০১৫ সালে তৃতীয় অ্যাটেম্পটে সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা ক্র্যাক করেন। অধিকার করেন ৭০৪ তম স্থান। আইপিএস (IPS) অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন। উমেশ তাঁর গ্রামের প্রথম ব্যক্তি, যিনি আইপিএস হয়েছেন।

সাফল্যের মূল মন্ত্র: ‘রিস্টার্ট’
আইপিএস অফিসার উমেশের মতে, জীবনের যে কোনও ব্যর্থতার পর আবার নতুন করে শুরু করা বা ‘রিস্টার্ট’ করাই হল আসল মূলমন্ত্র। সিনেমার ‘টুয়েলভথ ফেল’ ছবির গল্পের সাথে নিজের জীবনের হুবহু মিল পেয়ে উমেশ নিজেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন।