UPSC Civil Services Success Story। CA-র চাকরি ছেড়ে অনিশ্চতায় ভরা UPSC-র প্রস্তুতি

Spread the love

UPSC Civil Services Success Story: চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেট ছিলেন। চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি করে বড় কোম্পানিতে কাজও করছিলেন। কিন্তু নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য সেই চাকরি ছেড়ে দেন। পা বাড়ান এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। কিন্তু প্রথমবারেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বাজিমাত করলেন মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বাসিন্দা অঞ্জনি মিশ্র। প্রথম অ্যাটেম্পটেই প্রিলিমিনারি, মেইনস এবং ইন্টারভিউয়ের বাধা টপকে দেশে ২৭৪ তম স্থান অধিকার করেছেন।

আগে CA, তারপর UPSC

অঞ্জনির মনে প্রথম থেকেই কেরিয়ার নিয়ে একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি ছিল। অঞ্জনি প্রথমে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি (CA) নিয়ে পড়াশোনা করেন। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের মতো আরও এক কঠিন পরীক্ষা দিয়ে CA হন। একটি নামী সংস্থায় ভালো বেতনের স্থায়ী চাকরিও পেয়ে যান। কিন্তু অঞ্জনির মনে ছিল যে ইউপিএসসি দিয়ে আমলা হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নপূরণের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন।

২০২৪ থেকে শুরু হওয়া এক কঠিন যাত্রাপথ

চাকরি ছাড়ার পর ২০২৪ সাল থেকে অঞ্জনি পুরোপুরি ইউপিএসসির প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। ভোপালে বাড়ি থেকেই পড়াশোনা করতেন। অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং সুপরিকল্পিত সেলফ-স্টাডির ওপর ভরসা রেখেছিলেন। একেবারে নিয়ম মেনে সিলেবাস শেষ করা, নিয়মিত খবরের কাগজ পড়া এবং মকটেস্ট দেওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন। যার ফলস্বরূপ, প্রথম অ্যাটেম্পটেই মেলে কাঙ্খিত সাফল্য।

‘কয়েক বছরের জন্য সব কিছু ছেড়ে দাও’- সাফল্যের মূল মন্ত্র

অঞ্জনির মতে, ইউপিএসসির মতো মহাসমুদ্র পাড়ি দিতে গেলে সাময়িক কিছু ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। তাঁর সাফল্যের মূল মন্ত্র হল, ‘কয়েক বছরের জন্য বাইরের সমস্ত আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং মনোযোগ ঘোরানোর মতো জিনিস থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নাও।’ তিনি বিশ্বাস করেন, সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি কোনও পার্ট-টাইম কাজ নয়; এতে প্রয়োজন গভীর মনোযোগ এবং একাগ্রতা।

মানসিক চাপ ও কেরিয়ারের অনিশ্চয়তা জয়

বাইরে থেকে এই সাফল্য যতটা সহজ বা রোমাঞ্চকর মনে হয়, ভিতরের পথটা ততটা মসৃণ ছিল না। অঞ্জনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, প্রস্তুতির এই দীর্ঘ সময় তাঁকে প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে যখন তিনি দেখতেন তাঁর সমসাময়িক সহপাঠী বা বন্ধুরা কর্পোরেট দুনিয়ায় নিজেদের কেরিয়ারে এগিয়ে যাচ্ছেন, নতুন গাড়ি-বাড়ি কিনছেন বা প্রোমোশন পাচ্ছেন; তখন ঘরের এক কোণে বসে একা-একা পড়াশোনা করা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা ভাবা অত্যন্ত কঠিন ছিল।

এই মানসিক একাকীত্ব এবং ‘যদি পাশ না করতে পারি’- এমন নেতিবাচক চিন্তা মোকাবিলা করাই ছিল তাঁর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রতিবারই তিনি নিজের মনকে শান্ত রাখতেন এবং লক্ষ্যের কথা মনে করে নতুন উদ্যমে পড়া শুরু করতেন।

ভবিষ্যতের পরীক্ষার্থীদের জন্য অঞ্জনির বার্তা

নয়া প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে অঞ্জনি বার্তা দিয়েছেন, ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হতে কোনও অলৌকিক ক্ষমতার প্রয়োজন নেই। যা প্রয়োজন, তা হলো ধারাবাহিকতা এবং কঠোর শৃঙ্খলা। প্রস্তুতি দীর্ঘ হলে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে, সঠিক স্ট্র্যাটেজি মেনে এবং সাময়িক সমস্ত প্রলোভন ত্যাগ করে এগিয়ে গেলেই যে কোনও কঠিন লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *