UPSC Civil Services Success Tips। ২ বার প্রিলিমিনারি! ১ বার ইন্টারভিউয়ে আটকান- কীভাবে নিজে পড়েই IAS হলেন ইশিতা?

Spread the love

UPSC Civil Services Success Tips: জীবনের পথটা সবার জন্য মসৃণ হয় না। কেউ-কেউ প্রথমবারেই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যান, আবার কেউ কেউ বারবার আছাড় খেয়েও উঠে দাঁড়ান এবং প্রমাণ করেন যে ‘জেদ’ থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিকেও জয় করা সম্ভব। এমনই এক অনুপ্রেরণাদায়ক লড়াই লড়েছেন উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরের মেয়ে ইশিতা শর্মা। ২০২৫ সালের সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ভারতে ২৬ তম র‍্যাঙ্ক করে তিনি আজ একজন আইএএস (IAS) অফিসার। তবে এই ঝকঝকে সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা এক কঠোর সংগ্রাম, ব্যর্থতার কান্না এবং ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য গল্প।

টানা ব্যর্থতা এবং মানসিক লড়াই

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম এবং এম.কম ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর ইশিতা ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু প্রথম দুটি চেষ্টায় তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষাই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। যে মেয়ে স্কুল-কলেজে বরাবর প্রথম সারিতে থেকেছেন, তাঁর জন্য পরপর দু’বার প্রাথমিক ধাপেই আটকে যাওয়াটা ছিল মানসিকভাবে প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা আসে তাঁর তৃতীয় প্রচেষ্টায়। সেই বছর তিনি প্রিলিমস এবং মেইনস পার করে ইন্টারভিউ রাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছে যান। চূড়ান্ত ফলের দিন দেখা যায়, মাত্র ১৪ নম্বরের জন্য ফাইনাল মেরিট লিস্টে তাঁর নাম আসেনি। লক্ষ্যমাত্রার একেবারে দোরগোড়ায় এসে এভাবে ছিটকে যাওয়া যেকোনো মানুষকে ভেঙে ফেলার জন্য যথেষ্ট। বেশিরভাগ মানুষ হয়তো এই পরিস্থিতিতে এসে রণে ভঙ্গ দিতেন, কিন্তু ইশিতা ছিলেন ব্যতিক্রমী। তিনি নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করেন, পড়াশোনার কৌশল বদলে ফেলেন এবং চতুর্থবারের জন্য নিজেকে দ্বিগুণ শক্তিতে প্রস্তুত করেন। আর সেই চতুর্থ চেষ্টাই তাঁর ভাগ্য বদলে যায়।

দিল্লির কোচিং হাব ছেড়ে ঘরে বসেই প্রস্তুতি

আজকের দিনে ইউপিএসসি মানেই লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর দিল্লির রাজিন্দর নগর বা মুখার্জি নগরের মতো বড়-বড় কোচিং হাবের দিকে ছুটে যাওয়া। কিন্তু দিল্লির নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা সত্ত্বেও ইশিতা কোনও বড় বা নামী কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হননি। তিনি ফিরে এসেছিলেন নিজের শহর গোরক্ষপুরে। সেলফ-স্টাডি করেছিলেন।

ইশিতার মতে, কেবল পড়াশোনার ঘণ্টা গোনার বা টেবিল-চেয়ারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই খুলে বসে থাকার কোনো মানে হয় না। আসল বিষয় হল ‘কনসেপ্ট ক্লিয়ার’ করা। নিজের এই কৌশলের ওপর ভরসা রেখেই তিনি প্রথম চেষ্টায় NET-JRF পরীক্ষাতেও সফল হয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *