US-র ডালে ৩০% শুল্ক আরোপ ভারতের?

Spread the love

ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে এবার নয়া মোড়। একদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, অন্যদিকে মার্কিন দুই প্রভাবশালী সাংসদ নীরবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে ডাল বা পালস ফসল নিয়ে ছাড় আদায় করার জন্য হোয়াইট হাউসকে অনুরোধ করল। রিপাবলিকান দলের দুই সেনেটর স্টিভ ডেইনস এবং কেভিন ক্রেমার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিঠি লিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডাল ও মটরের উপর ভারতের আরোপিত ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষায়, এই শুল্ক অন্যায্য।

ভারতের উপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ঘিরে ইতিমধ্যেই সংঘাত তুঙ্গে। প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি এখনও দিনের আলোর মুখ দেখে উঠতে পারেনি। সেই পর্বেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালে নিঃশব্দে নয়া দিল্লির চাপানো এই ৩০ শতাংশ করকে প্রত্যাঘাত হিসাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা।

চিঠিতে কী লিখেছেন দুই সেনেটর?

চিঠিতে স্টিভ ডেইনস এবং কেভিন ক্রেমার জানিয়েছেন, মন্টানা এবং নর্থ ডাকোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডাল উৎপাদনের শীর্ষ রাজ্য। আবার অন্যদিকে ভারত বিশ্বের সবথেকে বড় ডাল ভোক্তা দেশ। বিশ্বের মোট ডাল ব্যবহারের প্রায় ২৭ শতাংশই ভারতে হয়। তাঁরা অভিযোগ করছেন, ভারত মুসুর ডাল, ছোলা, শুকনো সিম, মটরের মতো ডালের উপর বেশি পরিমাণে শুল্ক বসিয়েছে। ফলত, মার্কিন কৃষকরা ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতায় অসুবিধায় পড়ছে। এমনকী তাঁদের দাবি অনুযায়ী, ভারত গত বছরের ৩০ অক্টোবর হলুদ মটরের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যা ১ নভেম্বর, ২০২৫ থেকেই কার্যকর হয়। আর এই সিদ্ধান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডাল রপ্তানিকারকদের জন্য বিরাট ধাক্কা দেয়। চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভারতের আরোপিত এই অনার্য শুল্কের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডাল উৎপাদকরা ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতায় অসুবিধার মধ্যে পড়ছেন।’

সেনেটররা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই এই শুল্ক মেটানো সম্ভব। এমনকী তা দুই দেশের পক্ষেই লাভজনক হবে। একদিকে মার্কিন কৃষকরা, অন্যদিকে ভারতীয় ভোক্তারা এতে লাভের মুখ দেখবে বলেই মত প্রকাশ করছে তাঁরা। ওই চিঠিতে পুরনো প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছে। সেনেটররা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে ভারত সফরের আগে তাঁরা একেই বিষয় নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। আর সেই চিঠি নাকি ট্রাম্প নিজের হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। উল্লেখ করার বিষয়, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ভারতের উপর প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এমনকী আরও শুল্ক চাপানোর কথা ভাবছেন তিনি। আর এই সিদ্ধান্তের পর থেকে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেই ফাটল আরও স্পষ্ট। বাণিজ্য নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছোতে এখনও আলোচনা চালাচ্ছে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এখনও সম্ভব হয়নি সেই বাণিজ্য চুক্তি। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে ডাল শস্যের উপর শুল্ক কমানোর ‘চাপ’ দেওয়া হলে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *