US-র পর আরও এক দেশ ৫০% শুল্ক চাপাল এশীয় পণ্যে

Spread the love

একদিকে শুল্ক চাপিয়ে নাজেহাল করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারমধ্যেই ভারতকে চাপে ফেলতে উদ্যোগী আরও এক দেশ। এবার ভারত,চিন-সহ বেশ কয়েকটি এশীয় দেশের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপাল মেক্সিকো। সুতরাং বিশ্বজুড়ে আবারও শুল্ক যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক বৃদ্ধি করে অনেক দেশকে জোর ধাক্কা দিয়েছে। তারমধ্যে ভারতও রয়েছে। এবার ট্রাম্পের পথেই হাঁটতে শুরু করল উত্তর আমেরিকার এই দেশটি।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার মেক্সিকান সিনেটে পাস হয়েছে এই নয়া শুল্ক নীতি। জানা গিয়েছে, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তার মধ্যে এটি একটি। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই নয়া নীতি কার্যকর হবে। ধাতু, গাড়ি, পোশাক এবং যন্ত্রপাতির মতো ১,৪০০টিরও বেশি পণ্যের উপর প্রযোজ্য হবে এই নয়া নীতি। থাইল্যান্ড, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া-সহ মেক্সিকোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি না থাকা একগুচ্ছ দেশের উপর প্রভাব পড়তে চলেছে ব্যাপক আকারে। মেক্সিকোর সিনেট চিন এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি এশীয় দেশ থেকে আমদানিতে আগামী বছর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে। এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭৬ জন। বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন ৫ জন এবং ৩৬ জন ভোট পর্বে অনুপস্থিত ছিলেন।নিম্নকক্ষে আগেই পাস হওয়া এই প্রস্তাবে ২০২৬ সাল থেকে চিন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়া-সহ মেক্সিকোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ছাড়াই কিছু দেশ থেকে আসা গাড়ি, অটো যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল, পোশাক, প্লাস্টিক এবং ইস্পাতের মতো নির্দিষ্ট পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক বৃদ্ধি বা আরোপ করার প্রস্তাবটি অনুমোদন পেয়েছে। বেশিরভাগ পণ্যের উপর ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে বলে তথ্য।

ভারতের জন্য কতটা চিন্তার?

লাতিন আমেরিকায় টেক্সটাইল, অটো যন্ত্রাংশ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা ভারত এখন মেক্সিকান বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে রয়েছে। উত্তর আমেরিকার সাপ্লাই চেন হওয়ার কারণে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য একটি ধাপ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সেখানেই বড় শুল্ক কার্যকর হলে, সমস্যা তৈরি হবে বাণিজ্যে। অন্যদিকে, এই নয়া নীতি সামনে আসার পর, চিনের বাণিজ্য মন্ত্রক বৃহস্পতিবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বক্তব্য, তারা মেক্সিকোর নতুন শুল্ক নীতির উপর নজর রাখবে এবং এর প্রভাব বিবেচনা করবে, তবে সতর্ক করে দিয়েছে যে এই ধরনের পদক্ষেপ বাণিজ্যের স্বার্থকে ‘যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত’ করবে।

মেক্সিকো কেন পদক্ষেপ করল?

আসলে মেক্সিকো স্থানীয় শিল্পের প্রয়োজনীয়তা দেশীয় বাজারে বাড়ানোর লক্ষ্যে শুল্ক বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে, এর ফলে কতটা লাভ হবে, তা সময়ই বলবে। কিন্তু মেক্সিকোর এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলি তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দিয়েছেন যে, মেক্সিকোর শুল্ক বৃদ্ধির পদক্ষেপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করার জন্য হতে পারে। কারণ মেক্সিকো ইতিমধ্যেই তার রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলা করছে। তাই আগামী বছরের মধ্যে ৩.৭৬ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করার কথা ভাবছে মেক্সিকো। জানা গিয়েছে, ১,৪০০-র বেশি পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করা হবে। কারণ এই পণ্যগুলির মধ্যে অনেক পণ্যের উপর শুল্কের হার ৫০ শতাংশের নিচে রাখা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *