সতর্ক করার পর, আমেরিকা ইরানের একটি বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী তেহরান থেকে আসা একটি পণ্যবাহী জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটিকে আটক করেছে। এরপর হরমুজে উত্তেজনা বেড়েছে। এই ঘটনার পর ইরানও মার্কিন সামরিক জাহাজে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে। আমেরিকা তাদের আটক করা ইরানি জাহাজটির ভিডিও প্রকাশ করেছে। এরপর ইরানও মার্কিন সামরিক জাহাজে পাল্টা ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হয়েছে।

মার্কিন যুদ্ধ দপ্তর ভিডিওটি প্রকাশ করেছে
মার্কিন যুদ্ধ দপ্তর ইরানি পণ্যবাহী জাহাজটির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে এবং লিখেছে, “১৯শে এপ্রিল, আরব সাগরে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাত্রা করার চেষ্টাকারী একটি ইরানি পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরু করে। তবে, মার্কিন গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়েন্স (ডিডিজি ১১১) উত্তর আরব সাগরে বন্দর আব্বাসের (ইরান) দিকে ১৭ নট গতিতে চলার সময় এম/ভি টোস্কা জাহাজটিকে আটক করে। মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে একাধিকবার সতর্ক করে এবং জানায় যে এটি মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করছে।”
৬ ঘন্টা ধরে বারবার দেওয়া সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, টুস্কার নাবিকদল ছয় ঘণ্টা ধরে ইরানকে বারবার সতর্ক করার পর স্প্রুয়েন্স জাহাজটিকে তার ইঞ্জিন রুম খালি করার নির্দেশ দেয়। এরপর স্প্রুয়েন্স ডেস্ট্রয়ারটির ৫-ইঞ্চি এমকে ৪৫ কামান থেকে টুস্কার ইঞ্জিন রুমে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়, যা জাহাজটির চালনা ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়। পরবর্তীতে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের মার্কিন মেরিন সেনারা অবাধ্য জাহাজটিতে আরোহণ করে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছে। নির্দেশ পালন নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী সুচিন্তিত, পেশাদার এবং পরিমিতভাবে কাজ করেছে। অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে বা ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।