US-Iran peace deal: আর ৪৮ ঘণ্টা পরেই সুইৎজারল্যান্ডে মুখোমুখি বসবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্তারা। শান্তি চুক্তিতে সইসাবুদ করবেন তাঁরা। ঠিক তার আগে স্বভাবসুলভ অনিশ্চয়তা বজায় রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ফ্রান্সের জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন থেকে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে তিনি বললেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, তেহরান যদি ‘সঠিক আচরণ’ না করে, তবে তিনি আবারও ইরানে বোমা হামলা শুরু করতে পারেন।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এই আবহে ট্রাম্পের এমন কঠোর মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও তেহরানের ওপর সামরিক চাপের কৌশল থেকে তিনি সরছেন না। মূলত দর-কষাকষিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতেই ট্রাম্প এই যুদ্ধের হুমকি বজায় রেখেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিন ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত নয়। এটি কেবল একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার এটি পছন্দ না হয় বা তারা (ইরান) যদি ঠিকঠাক আচরণ না করে, তবে আমরা সোজা তাদের মাথার ওপর বোমা ফেলা শুরু করব… কারণ গত ৪৭ বছর ধরে তারা খারাপ আচরণই করে আসছে।’ ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিয়ে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে যৌথভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গত রবিবার ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘চুক্তি চূড়ান্ত’ বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, ভার্চুয়ালি তাতে সইও করেছেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় হবে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠান। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কী এমন হলো, যাতে ১৮০ ডিগ্রি উল্টো সুরে গাইতে শুরু করলেন ট্রাম্প? তা অবশ্য জানা যায়নি। কূটনৈতিক মহলে যখন এই চুক্তিকে ঘিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরছিল, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ওয়াশিংটন তাদের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনও আপস করবে না। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে নাকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

‘আই অ্যাম দ্য বস’
ফ্রান্সের রিসোর্ট শহর এভিয়ান-লে-বাঁয়ে জি-৭ সম্মেলনের তৃতীয় দিন বুধবার সকালের অধিবেশনে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রসিকতা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে। আয়োজক দেশ হিসেবে মাক্রোঁর সম্মেলনের সভাপতি হলেও, এদিন ট্রাম্প অধিবেশনে যোগ দিয়ে বলেন, ‘আমিই বস।’ ওই সময় অন্য বিশ্বনেতারা তাঁদের আসনে বসে ছিলেন। ট্রাম্পের মন্তব্যে সবার মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। মাক্রোঁও বিষয়টিকে রসিকতা হিসেবে নেন। পরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কেমন আছেন?’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো আছি, ধন্যবাদ।’ এরপর তিনি নিজের আসনে বসেন। কানাডায় অনুষ্ঠিত আগের জি-৭ সম্মেলন থেকে মাঝপথেই চলে গিয়েছিলেন ট্রাম্প৷ কিন্তু এবার সম্মেলনের তিন দিনই থেকেছেন এবং জি-৭-এর যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরও করেছেন৷ সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরেও ফ্রান্সে থাকবেন ট্রাম্প৷ কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মাক্রোঁর- আমন্ত্রণে ভার্সাই প্রাসাদে নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি৷