১৬টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের বাণিজ্য নীতি এবং অনুশীলনের বিষয়ে একটি নতুন তদন্ত শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই সব দেশের বাণিজ্য নীতিকে ‘অন্যায্য’ বলে মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই ১৬টি দেশের তালিকায় আছে ভারতের নামও। এই পদক্ষেপের ফলে ভারতসহ অনেক দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ও অন্যান্য জরিমানা আরোপের পথ প্রশস্ত হতে পারে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি খারিজ করে দেওয়ার পরে এই তদন্ত শুরু হল। মনে করা হচ্ছে, অন্য দেশের ওপর শুল্ক চাপানোর বিকল্প হিসেবে এই তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভারত ছাড়াও, চিন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপরও তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইস্পাত, অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টরের মতো উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত ক্ষমতা এবং অতিরিক্ত উৎপাদন নিয়ে এই তদন্ত করা হচ্ছে। আমেরিকার বিশ্বাস, মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি করতে পারে এই বিষয়টি। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ নং ধারার অধীনে এই তদন্ত হবে। এই নিয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, বাণিজ্য চুক্তি থাকলেও এই তদন্ত থেকে পার পাবে না কেউ। এদিকে এই তদন্তে কোনও দেশ ‘দোষী’ সাব্যস্ত হলে তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে পারে আমেরিকা, বা জারি করতে পারে নানা নিষেধাজ্ঞা। এর আগে চিনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে এই তদন্তকে ব্যবহার করা হয়েছিল ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সিতে।
উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দিয়ে মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের শুল্ক বাতিল করেছিল। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পারস্পরিক শুল্ক নীতি আদতে বেআইনি। এবং এতদিন ধরে এই নীতিতে যত কর সংগ্রহ করা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত। আর সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টা পরই বৈশ্বিক শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে মার্কিন কংগ্রেসকে এড়িয়ে নিজের সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশের ওপর বিভিন্ন বারে শুল্ক চাপিয়েছিলেন। তবে জরুরি ক্ষমতার অধীনে ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন শীর্ষ আদালত।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালের ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা’ আইনের (আইইইপিএ) অধীনে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক চাপিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি এই আইনের বলে একতরফা ভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এই সিদ্ধান্তের অর্থ হল ভারত সহ অনেক দেশের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আগের মতোই প্রায় ৩.৫ শতাংশে এ ফিরিয়ে আনতে হবে। যদিও ট্রাম্প ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। এরই সঙ্গে যে যে দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আমেরিকার কথাবার্তা চলছিল, তাদের সেই চুক্তি মানতে চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই নয়া তদন্ত সেই চাপ সৃষ্টিরই একটি কৌশল মনে মনে করা হচ্ছে।