ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এবার ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট। একদিন আগেও এই বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভারতের ওপর থেকে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করার কথা বিবেচনা করতে পারে আমেরিকা। রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর এই শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। আর এবার সেই তিনিই বললেন, রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করলেও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়ন করছে এবং এসবই হচ্ছে রাশিয়ার তেলের মাধ্যমে।
স্কট বেসেন্টের কথায়, ‘আমরা রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছি। গত সপ্তাহে কী ঘটেছিল তা আপনি অনুমান করুন? ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে ইইউ।’ উল্লেখযোগ্য, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির অজুহাতে ভারতের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মাঝে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে হতবাক করে দিয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল সোমবার বলেছেন, প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) জন্য ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের আলোচনা সফলভাবে শেষ করেছে। তিনি বলেন, ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই বাণিজ্য চুক্তি সুষম ও ভবিষ্যৎমুখী, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সংযুক্তিকরণে সাহায্য করবে। আগরওয়াল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন যে এটি উভয় অর্থনীতিতে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগে নতুন গতি আনবে।

চুক্তিটি ২৭ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে এবং আগামী বছরের শুরুতে এটি কার্যকর হতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে, কারণ এতে ইউরোপীয় সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন। উল্লেখ্য, এই চুক্তিটি ১৮ বছরের আলোচনার পরে সম্পন্ন হয়েছে। এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল সেই ২০০৭ সালে। মঙ্গলবার ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৭ জানুয়ারি ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তার সাথে শীর্ষ বৈঠক করবেন।