উত্তরবঙ্গ এবং রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলিতে প্রথম দফার নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের চিত্রটা ভোটের আগের রাত থেকেই ভিন্ন। বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে। আবার ভোট শুরু হতে না হতেই বিজেপির এজেন্টের মাথা ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ফলতার জয়েন্ট বিডিও এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসককে রাতেই সরিয়ে দেয় কমিশন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মিনাখাঁয় রাত থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ভোটরদের যাতে প্রাভাবিত না করা যায়, তার জন্য লক্ষাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন রয়েছে রাজ্যে। তা সত্ত্বেও জায়গায় জায়গায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে। এদিকে ভোটের আগের রাতে শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে ডিসিআরসি সেন্টারের বাইরে বিক্ষোভ দেখালেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির বিজেপি প্রার্থী মাধবী মহলদার। প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটদানের হার ছিল ৯৩ শতাংশেরও ওপরে। তবে দ্বিতীয় দফায় ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, শ্যামপুকুরে ভোট শুরুর আগে বুথের ১০০ মিটার এলাকায় জমায়েত করা হচ্ছিল। এই আবহে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। আবার টাকা বিলির অভিযোগে ভোটের আগের রাতে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় তৃণমূল প্রার্থী আনিসুর রহমানকে তাড়া করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় আইএসএফের দিকে উঠেছে আঙুল। ভাঙড় দু’নম্বর ব্লকের বিজয়গঞ্জ থানার কোচপুকুর এলাকায় আইএসএফ কর্মীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
এদিকে সকাল সকাল ভোট শুরুর আগেই নদিয়ার চাপড়ায় মাথা ফেটেছে বিজেপি এজেন্টের। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫৩ নম্বর বুথে বিজেপির এজেন্ট মোশারেফ হোসেনকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আবার বারাসতে এক বিজেপি বুথ এজেন্টের ফাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে যে সিঙ্গুর থেকে রাজ্যে বামেদের পতনের শঙ্খ বাজতে শুরু করেছিল, সেখানে গতকাল রাতে থানা ঘেরাও করেছিলেন তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক বেচারাম মান্না। এবারও তিনি সেখানকার প্রার্থী। বেচারাম মান্নার অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে সিঙ্গুর ব্লকের তৃণমূল বিভিন্ন অঞ্চল সভাপতি থেকে কর্মীদের বাড়ি থেকে ‘তুলে’ নিয়ে যায় পুলিশ। তাঁর আরও অভিযোগ, যাঁদের নামে কোনও অভিযোগ নেই, তাঁদের থানায় নিয়ে এসে হয়রানি করা হচ্ছে। এই আবহে গভীর রাতে সিঙ্গুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তৃণমূল কংগ্রেস।
