ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের অদূরেই বেশ কয়েকজনকে নিয়ে বসেছিলেন কার্তিক। এই আবহে পুলিশ সেখানে গিয়ে বলে, চারজনের বেশি একসঙ্গে জমায়েত করা যাবে না। সেই সময় সতর্ক করা হয় কার্তিককে। ভবানীপুরে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্রের ওপর নজর গোটা রাজ্য তথা দেশের। প্রচারের সময়ও এখানে নানা সময় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল দুই পক্ষের মধ্যে। এই আবহে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পুলিশ তৎপর।
এদিকে আজ সকাল-সকাল ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পরিদর্শনে বেরোলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, নিজের বিধানসভা এলাকার একাধিক বুথে পরিদর্শন করতে যাবেন তিনি। এই আবহে সরালে বেরিয়ে গাড়িতে বসেই তাঁকে কথা বলতে দেখা যায় ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে। ফিরহাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী যাওয়ার ঘটনা নিয়ে মমতা বলেন, ‘ববির স্ত্রী ছিল। মাঝরাতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। মহিলারা আতঙ্কিত।’ এদিকে আজ খিদিরপুরের হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে দিন শুরু করতে চলেছেন মমতার প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে গতকাল শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস প্রচুর নকল আঙুল কিনেছেন ছাপ্পা ভোটের জন্য।
এদিকে ভবানীপুরের পাশের কেন্দ্র রাসবিহারীতে উত্তেজনা ছড়ায় সকাল সকাল। দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী এলাকায় নাকি কংগ্রেস এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দাবি করা হয়, রাসবিহারী কেন্দ্রে নাকি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা ‘গুন্ডামি’ করছে। রাসবিহারী কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। এদিকে এখানে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন দেবাশীষ কুমার। আর বিজেপি প্রার্থী করেছে প্রাক্তন সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্তকে। বামেদের তরফ থেকে এখানে সিপিআই (এমএল) লিবারেশন প্রার্থী করেছে মানস ঘোষকে।

এদিকে দমদম ও নিটাউনে ভোট শুরুতে বিলম্ব। উত্তর দমদমের ২০৭ নম্বর বুথে তৃণমূল কংগ্রেসের বোতামে কালি লাগানো রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। আবার মক পোলিংয়ের সময়ই ইভিএমে সমস্যা দেখা দেয় উত্তর দমদমের ১০ নম্বর বুথে। এদিকে সকাল ৭টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সময়মতো ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের আদিত্য অ্যাকাডেমির ২২ নম্বর বুথে। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া।