ভোটের আগের থেকেই জেলায় জেলায় পুলিশি ধরপাকড় চলছে। হাজারের বেশি দুষ্কৃতীদের ভোটের আগেই জেলে ভরা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে। তবে এরই মাঝে তৃণমূল আবার অভিযোগ করেছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশ নাকি বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের ‘তুলছে’। এরই মাঝে বড় অভিযোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস। এক তৃণমূল কর্মীর ছেলেকে নাকি বাড়িতে ঢুকে পুলিশ মারধর করেছে। সেই ছেলেটি নাকি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অভিযোগ, বাবা তৃণমূল নেতা, তাই ছেলেকে মারধর করা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার পিফা পঞ্চায়েতের ১২৮ নাম্বার বুথে ঘটনাটি ঘটেছে। তৃণমূল নেতা কাদের সরদারের বাড়িতে গতকাল রাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গিয়েছিলেন। সেই সময় কাদের নিজে বাড়িতে ছিলেন না। তখন কাদেরের ছেলে আবু ফারহাদ সর্দারকে পুলিশ বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পুলিশের সঙ্গে সে যেতে না চাইলে তাকে নাকি মারধর করা হয়।
প্রসঙ্গত, ভোট প্রচারে এসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বারুইপুরের সভা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, ‘একসময় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে নেওয়া হত। জাতীয়তাবাদের প্রেক্ষাপটে এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছিল। যাদবপুরের ক্যাম্পাসের ভিতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেওয়ালে দেশবিরোধী কথাবার্তা লেখা হচ্ছে। ছাত্রদের মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে। পড়াশোনা হচ্ছে না।’ এর জবাবে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেছিলেন, ‘বিখ্যাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্কে এ ভাবে বর্ণনা করা যায়? এটাই কি আপনার শালীনতা এবং সৌজন্যবোধের ধারণা? আপনি কি এত নীচে নেমে গিয়েছেন? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা তাঁদের মেধা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ডিগ্রি নিয়ে, বুদ্ধি নিয়ে, প্রশ্ন করার ক্ষমতা নিয়ে বেরিয়েছেন। এটা তো অরাজকতা নয়। এটাই শিক্ষা এবং এটাই শ্রেষ্ঠত্ব।’ এই আবহে বঙ্গ রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সেই বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক ছাত্রকে পুলিশ মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।
