বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি বদল করা হয়েছে রাজ্যপাল। এরই মাঝে জল্পনা তৈরি হয়েছে, বিহার এবং বাংলার একাংশ ভেঙে একটি নয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। এরই মাঝে আবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি বিহারের সীমাঞ্চল সফরে গিয়েছিলেন। এই সময় তিনি বিহারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠক করেন। এরই সঙ্গে রাজ্যপাল বদল মিলিয়ে নয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। এই নিয়ে এবার মুখ খুলল কেন্দ্রীয় সরকার।
দাবি করা হচ্ছিল, বিহারের কয়েকটি জেলা ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলাগুলিকে একত্রিত করে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের প্রস্তুতি চলছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছিলেন। তিনি সম্প্রতি বলেছিলেন, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বাংলাকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই জল্পনা সম্পর্কে অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পিআইবি ফ্যাক্ট চেক এই জল্পনাকে পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে। এটিকে নিছক গুজব বলে অভিহিত করেছেন। বিহারের সীমাঞ্চল অঞ্চল (পূর্ণিয়া, কাটিহার, কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া) এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলিকে (মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং শিলিগুড়ি করিডোর) সংযুক্ত করে একটি নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হবে বলে জল্পনা চলছে।
পিআইবি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের কোনও প্রস্তাব ভারত সরকারের বিবেচনাধীন নেই। এটা একেবারেই গুজব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা কোনও সরকারী সংস্থা এই ধরনের কোনও পরিকল্পনার বিষয়ে নিশ্চিত করেনি। সরকার নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে যে তারা যেন যাচাই না করে এই সব দাবিতে বিশ্বাস না করে। এছাড়া স্পর্শকাতর সংবাদ অন্য কাউকে জানানোর আগে যাতে তারা তা যাচাই করে নেন। তা না হলে আঞ্চলিক অনুভূতি বা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি বিহারের সীমাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গ সফর করলে এই গুজব আরও জোরদার হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অনুপ্রবেশ ও মাদক চোরাচালান রুখতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে শিলিগুড়ি করিডোর রক্ষার জন্য সম্প্রতি কিষাণগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গে নতুন পোস্ট স্থাপন করেছে ভারতীয় সেনা। এদিকে উত্তরবঙ্গকে আলাদা একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবি বহুদিনের। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ ভোটের আগে জল্পনা তৈরি হয় নয়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়ে।