নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে ভোটগণনা কেন্দ্রে মারধরের অভিযোগ। এদিকে বীজপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারীকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজে গণনাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। তৃণাঙ্কুর অভিযোগ করেন, তাঁর হাত থেকে নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে অর্জুন সিং এবং তাঁর অনুগামীদের মধ্যে।
জানা গিয়েছে, গণনাকেন্দ্রে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলে, জবাবে বিজেপি কর্মীরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান ওঠে। এর থেকে উত্তেজনা বাড়ে। মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয় দুই পক্ষের। সেই সময় আহত হন তৃণমূলের দুই প্রার্থী। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর জেরে দুই দলেরই পাঁচজন আহত হন।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দাবি করেন, বিজেপি নাকি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মিলে গণনায় কারচুপি করছেন। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করলেন যে ইচ্ছাকৃতভাবে ঢিমেতালে গণনা করছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল সুপ্রিমো স্পষ্ট ভাষায় জানান যে গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘প্রথম ২-৩ রাউন্ডে আমি কাল থেকেই বলছি ওদেরগুলো (বিজেপি) আগে দেখাবে। আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। এটা দেখে ভয় পেয়ে বা হতাশ হয়ে কেন্দ্র ছেড়ে চলে আসবেন না।’
গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেত্রী সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের একাংশের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের প্রায় ১০০টি জায়গায় গণনা প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কল্যাণীর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘কল্যাণীতে সাতটি মেশিনে গরমিল ধরা পড়েছে। যেখানে ভোটের সংখ্যার কোনও মিল নেই।’ সেই রেশ ধরে দলের কর্মী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমাদের সব কাউন্টিং এজেন্টদের, আমাদের সমস্ত পার্টির কর্মীদের বলব, অত মন খারাপ করার কারণ নেই। আমি বলেছিলাম, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড কাউন্ট হলেও এটা ১৪-১৮ রাউন্ড কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি, ওয়াচ। আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিতে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।’
