২০২৬ সালের বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর ফের রংবদলের পথে রাজ্য। ভোটের ফলাফল যা বলছে, এখনও অবধি তাতে পালে হাওয়া রয়েছে বিজেপির। সেভাবে কামড় বসাতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই বিধানসভা নির্বাচনের গণনাকে সামনে রেখে পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী কেন্দ্র রামনগর এবং হলদিয়ায় এখন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে, যখন রাজ্যে বিজেপি নেতা-কর্মীরা বিজয় উচ্ছ্বাসে ব্যস্ত, অন্যদিকে তখন ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ আদালতে দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন হলদিয়া এবং রামনগরের তৃণমূল প্রার্থী তাপসী মণ্ডল এবং অখিল গিরি। দু’জনের দাবি, ইভিএমে কারচুপি করা হয়েছে। কিন্তু এই অভিযোগ জানিয়েও নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আর তাই রায় ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে হুঁশিয়ারি দুই তৃণমূল প্রার্থী। যদিও কারচুপি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি কমিশন।
হলদিয়ার তৃণমূল প্রার্থীর হুঁশিয়ারি
এদিন ভোট গণনার মধ্যেই হলদিয়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তাপসী মণ্ডল প্রশ্ন তুলেছেন, ভোট হয়ে যাওয়ার পরেও প্রতিটি ইভিএমে ৯০ শতাংশের উপরে চার্জ রয়েছে। তা কী করে সম্ভব? তাঁর কথায়, সারাদিন ভোটগ্রহণ হলে ইভিএমের চার্জ এত থাকতে পারে না। ইতিমধ্যে হলদিয়ায় ১১ রাউন্ড গণনা শেষ হয়ে গিয়েছে। এরপরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হলদিয়ার তৃণমূল প্রার্থী। সেখানে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ইভিএমের ব্যাটারি ৯০ শতাংশের বেশি চার্জ। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট হলে, বোতাম টিপলে ইভিএমের চার্জ এত থাকার কথা নয়। এর মানে ইভিএম আগে থেকে সেট করা ছিল। সম্পূর্ণটাই কারচুপি করা হয়েছে।’ তাপসী মণ্ডলের আরও দাবি, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। আর তাই জনগণের রায় ফিরে পেতে আদালতে যাচ্ছেন তিনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন তিনি।

ধর্নায় অখিল গিরি
শুধু তাপসী মণ্ডল নয়, একই অভিযোগ জানিয়েছেন রামনগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অখিল গিরিও। গণনার মাঝেই তিনি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন অখিল গিরি। তাঁরও দাবি, ২৩ তারিখে ভোট হওয়ার পরেও কীভাবে ৯২ শতাংশ চার্জ থাকে ইভিএমে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ তৃণমূল প্রার্থীর। এরপরেই গণনা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানে বসেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে আদালতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন অখিল গিরি। তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি নির্বাচন কমিশন।