পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের আলোচনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন। নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে ভোটার এবং ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিকে স্বাগত জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে এবার সেই বাহিনী মোতায়েন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের (সিইও) কাছে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করা হল রাজ্যের শিক্ষক সংগঠন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারীর নেতৃত্বে এই দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘কোনওভাবেই যেন শিক্ষাবর্ষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্কুলগুলোকে ব্যারাকে পরিণত করা না হয়।’
‘মাসের পর মাস পঠন-পাঠন বন্ধ থাকে স্কুলে’
ওই শিক্ষক সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সাধারণ মানুষের মনে ভরসা জোগানো প্রয়োজন। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের থাকার জায়গা নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে। কারণ প্রতিবারই নির্বাচনের সময় রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়গুলিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার জায়গায় পরিণত করা হয়। এর ফলে দিনের পর দিন, এমনকী মাসের পর মাস স্কুলগুলোতে পঠন-পাঠন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে বলে দাবি করা হয়েছে শিক্ষক সংগঠনের তরফে।
‘পড়ুয়ারা কোথায় যাবে?’, প্রশ্ন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সম্পাদক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাসের পর মাস সরকারি স্কুলগুলোকে এভাবে ব্যবহার করার ফলে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এমনিতেই রাজ্যের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের আকাল। তার ওপর হাজার-হাজার শিক্ষককে বিএলওয়ের ডিউটি দিয়ে পঠন-পাঠন থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে স্কুল ভবনগুলোও যদি দখল হয়ে যায়, তবে পড়ুয়ারা কোথায় যাবে?’

বিকল্প কোন কোন জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের রাখা যেতে পারে?
সেই আবহে বিকল্প কোন জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা থাকতে পারেন বা তাঁদের রাখা হয়, সেরকম প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কাছে। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে কোন বিকল্প দুটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা দেখে নিন –
১) অব্যবহৃত সরকারি ভবন: রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে বহু কিষাণ মান্ডি ও অডিটোরিয়াম অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেগুলিকে জওয়ানদের থাকার কাজে ব্যবহার করো হোক।
২) অস্থায়ী তাঁবু: প্রয়োজনে খোলা জায়গায় অস্থায়ী ক্যাম্প বা আধুনিক তাঁবু তৈরি করে বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করা হোক।