জি বাংলায় নতুনভাবে শুরু হয়েছিল ভোলে বাবা পার করেগা সিরিয়ালটি। আর সেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাচ্ছিল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাহুল ও শ্বেতার চরিত্রের বিয়ে দিয়ে শুরু হয়েছিল গল্প। দুজনে গিয়েছিল মধুচন্দ্রিমায়। আর তারই আউটডোর শ্যুট ছিল দীঘার নিকটবর্তী ওড়িশার তালসারিতে। শ্যুটের ফাঁকেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। জলে ডুবে যান রাহুল।
জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল থেকে শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন ভোলে বাবা পার করেগা-র টিম। সঠিকভাবেই শেষ হয় কাজ। অম্বরীশ ভট্টাচার্য, ভাস্কর চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে গাড়ি ছেড়েও দেয়। শুটিং ইউনিটেরএক ব্যক্তি আনন্দবাজারকে জানান যে, শ্যুটের পর একাই জলে নামেন রাহুল। পাড়ে দাঁড়িয়েছিলেন ধারাবাহিকের নায়িকা শ্বেতা। আর তিনিই হঠাৎ চিৎকার শুরু করেন, ‘রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে’! এরপর সকলে মিলে সাথেসাথেই নামেন উদ্ধারে। এমনকী, সমুদ্র থেকে যখন রাহুলকে উদ্ধার করা হয়, তখনও বেঁচে ছিলেন তিনি।
তালসারির সৈকত থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রোডাকশন ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী-র কথা অনুসারে, রাহুলকে তড়িঘড়ি গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়ির সামনে লাল কাপড় ধরে দ্রুত পৌঁছনোর চেষ্টাও করা হয়। তবে শহরে ঢোকার পর খানিক দেরি হয় যানজটের কারণে। গাড়ির মধ্যেই রাহুলের শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। তিনি প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। সঙ্গে থাকা টেকনিশিয়ানরা তাঁর বুকে হাত বুলিয়ে তাঁকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করছিলেন, যাতে কোনওভাবে তাঁকে বাঁচানো যায়।চন্দ্রশেখরের অনুমান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাহুলের হার্ট অ্যাটাক হয়। পুরো ঘটনাটি প্রায় ২০–২২ মিনিটের মধ্যে ঘটে। হাসপাতালে পৌঁছনোরপর ডাক্তাররা তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। সোমবার কাঁথি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে।

ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন রাহুলের গাড়ির চালকও। তিনি জানিয়েছেন, ‘রাহুলদা সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি বার বার বারণ করছিলাম। শোনেনি আমার কথা।’ এদিকে চোখের সামনে রাহুলকে জলে ডুবে যেতে দেখে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন তাঁর ধারাবাহিকের নায়িকা শ্বেতাও।
এদিকে কাঁথি থানার টিম ময়নাতদন্তের আগে সুরতহালে (সুরতহাল হল ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট। অস্বাভাবিক মৃত্যু যেমন: আত্মহত্যা, খুন বা দুর্ঘটনা হলে পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট মৃতদেহের বাহ্যিক পরীক্ষার পর যে রিপোর্ট তৈরি করে তাকে ইনকোয়েস্ট বলে) নেমে রীতিমতো হতবাক। শ্যুটিং টিমের কাউকেই সেখানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাত সাড়ে ৯টায় অবধি রাহুলের পরিবার বা শ্যুটিং টিমের কাউকে থানায় পায়নি পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা শুনে পুলিশ যখন শ্যুটিং টিমের লোকজনকে খোঁজার চেষ্টা করেন, কাউকেই দেখতে পাওয়া যায়নি।
এমনকী শ্যুটিং টিমের থেকেও একেক রকম তথ্য সামনে এসেছে। এরকমও শোনা গিয়েছে যে, বোটে করে যখন শ্যুট চলছিল, তখন জলে পড়ে যান রাহুল। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা খোঁজ করার পর, তাঁকে উদ্ধার করা হয়।