কদিন আগেই বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। ভাইসম রাহুল বন্দ্য়োপাধ্যায়ে তাঁর ‘বাবিন রে’ বলে বুকফাটা কান্না চোখে জল এনেছিল আরও অনেকেরই। তবে সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই, ফের প্রিয়জনকে হারালেন তিনি। চলে গেলেন অভিনেত্রীর মা। রাহুল প্রয়াত হওয়ার পরপরই খবর এসেছিল যে, দীপালি চক্রবর্তী অসুস্থ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সকলের সঙ্গে এই দুঃসংবাদ ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী।
দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন দীপালি চক্রবর্তী। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
সুদীপ্তা চক্রবর্তী এদিন সমাজমাধ্যমে তাঁর মায়ের একটি ছবি পোস্ট করেন। সঙ্গে কেবল একটাই শব্দ লেখেন, ‘মা।’ এই পোস্ট দেখে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না অনেকেই। নৃত্যশিল্পী দিপালী চক্রবর্তী ছিলেন টলিউডের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব প্রয়াত বিপ্লবকেতন চক্রবর্তীর স্ত্রী। তিনি একজন দক্ষ ওড়িশি নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যগুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের তিন মেয়ে, সুদীপ্তা, বিদীপ্তা ও বিদিশা চক্রবর্তী। বিদীপ্তা বড়, তারপর বিদিশা, আর সবচেয়ে ছোট সুদীপ্তা।
২০১৮ সালে বিপ্লবকেতন চক্রবর্তীর প্রয়ানের পরে সংসারের হাল ধরেছিলেন দীপালি। এমনকী, মেয়েদের অভিনয় ও শিল্প জগতে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনেও ছিল তাঁর বড় অবদান।

কদিন আগে তালসারিতে শ্যুটিংয়ে গিয়ে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকষ্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন সুদীপ্তা। মায়ের অসুস্থতার মাঝেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় করে গিয়েছেন একের পর এক পোস্ট। ভাইয়ের বিচার চেয়ে হয়েছেন সরব। সরাসরি আর্টিস্ট ফোরাম, ম্যাজিক মোমেন্টস প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে খুলেছেন মুখ। রাহুলকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘ইন্ড্রাস্ট্রির ক্ষতি কি না জানি না হয়তো ক্ষতি, তবে আমার অনেক বড় ক্ষতি।’