রেশন দুর্নীতিতে জেল খাটা এখন অতীত। আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। আর প্রচারে গিয়ে হাবড়া থানার আইসি ও বিডিও-কে হুমকি দিতে শোনা গেল তাঁকে। এসআইআরে ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে এই হুমকি দিয়েছেন তিনি। বিডিও এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে ‘নির্বাচন কমিশনের লোক’ বলে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন তিনি।
তৃণমূলের কর্মিসভায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘গতকাল একটা লিস্ট বেরিয়েছে। দেখছিলাম লিস্টে অনেকগুলো নাম বাদ গিয়েছে। প্রতিটা লোক এখানে পরিকল্পনা করতে ঢুকেছেন। তাঁদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন যেমন রয়েছে দিল্লিতে, আর পশ্চিমবঙ্গে ইলেক্টোরাল অফিসার রয়েছেন। এদিকে হাবড়ার দুইজন এই এজেন্সির দায়িত্ব নিয়েছেন। এক হাবড়ার বিডিও, আর হাবড়া থানার আইসি। তাঁরা নাম কাটার দায়িত্ব নিয়েছেন। সময় আসলে ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দেব কত ধানে কত চাল।’
এদিকে জ্যোতিপ্রিয়র এহেন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে পালটা তোপ দাগতে শোনা গিয়েছে বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলকে। তিনি বলেন, ‘উনি যে কথাগুলো বলছেন সুস্থ আছে কিনা আমার সন্দেহ। হারের ভয় কাজ করছে তাই সুগার চর চর করে বাড়ছে। অতিরিক্ত গরম পড়ছে। তাতে মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন। যারা সরকারি চাকরি করেন, তাঁরা জানেন কাজটা কীভাবে করতে হয়। চাকরিটা গেলে তাঁদের যাবে। ওনার না হয় অনেক টাকা আছে। তাই উনি ওনার মতো করে বলছেন। হাবড়ায় যে দাগ লাগিয়েছেন, আগামী ২৯ এপ্রিল পদ্মফুলে ভোট দিয়ে হাবড়াকে কলঙ্কমুক্ত করবে হাবড়াবাসী।’এদিকে এসআইআরর সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে নাম বাদ পড়া নিয়ে তৃণমূল যতই নির্বাচন কমিশন বা বিজেপিকে তোপ দাগুক, এখন যা হচ্ছে তা বিচারকদের অধীনে হচ্ছে। এবং বিচারাধীন ভোটারদের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বিচারকদের নিয়োগ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগে পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসই বিচারক নিয়োগ নিয়ে দাবি করেছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল শুনেই নাকি নির্বাচন কমিশনের অধিকার খর্ব করে সর্বোচ্চ আদালত। তবে বিচারকরাও যখন লক্ষ লক্ষ অবৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে, তখন ফের সুর বদলেছে তৃণমূলের।
