আইএসসি পরীক্ষায় দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছেন। আর ব্যারাকপুরের সেই অনুষ্কা ঘোষ জানালেন যে তিনি বামপন্থী। এমনকী রাজনীতিতেও যোগ দিতে চান। সংবাদমাধ্যম টিভি নাইন বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্কা জানিয়েছেন যে সঠিক সময় সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন। এখন যে বিষয়গুলি ঠিক নেই, সেগুলি শুধরে ফেলার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন পানিহাটির সেন্ট জেভিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ছাত্রী। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বামপন্থায় বিশ্বাস করেন। বামপন্থার মতাদর্শের সঙ্গে অনেকটাই সহমত। তাই নিজেকে বামপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অনুষ্কা। তবে বামপন্থী হলেও বামেরা যে সবকিছু ঠিক করছে বা বামেদের সবকিছু ঠিক, এরকম ধারণা পোষণ করেন না আইএসসি টপার। বরং ঠিক-ভুলের মানদণ্ডে ফেলে সবকিছু যাচাই করে দেখেন।
ঘুরে দাঁড়ানোর নয়া মন্ত্র বামপন্থীদের
আর অনুষ্কার সেই কথায় অভিভূত হয়েছেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। কারণ বামেদের দশা এখন বেশ শোচনীয়। ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে নির্বাচনী পরীক্ষায় ক্রমশ নীচে নামতে শুরু হয়েছে। এখন তো শূন্যে ঠেকেছে। এবারও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শূন্যের গেরো কাটানোর চেষ্টা করছে। সেই আবহে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় দেশে প্রথম হওয়া এক কিশোরী নিজেকে বামপন্থী বলায় ঘুরে দাঁড়ানোর ভরসা পেতে শুরু করেছেন অনেকেই।
অনুষ্কার কথায় উচ্ছ্বসিত বামেরা
তেমনই এক বাম সমর্থক বলেছেন, ‘অনুষ্কা ঘোষ!! ব্যারাকপুর থেকে রাজ্যের মধ্যে প্রথম। ২০২৬-র আইএসসি পরীক্ষায় ৪০০-র মধ্যে ৪০০ পেয়েছে। সেজন্য তাকে অফুরন্ত অভিনন্দন জানাই । কিন্তু যে কারণে ওর কথা বলতে আসা, তা হল অনুষ্কা তার মনের কথা জানাল মিডিয়াকে। বড়ো হয়ে রাজনীতিতে আসতে চায়, সবসময় মতের মিল না হলেও বামপন্থী রাজনীতির প্রতি প্রবল আকর্ষণ রয়েছে, সে কথা অকপটে জানাল অনুষ্কা।’

‘আমাদের আলোময় আগামী’, উচ্ছ্বসিত বাম সমর্থক
সেইসঙ্গে ওই বাম সমর্থক বলেন, ‘এখনকার সময়ে যখন প্রায় সব মেধাবী ছেলেমেয়েরাই রাজনীতির প্রতি বিমুখ তখন অনুষ্কার মতো মেয়ের মুখে এমন উন্মুক্ত ভাবনার কথা শুনে মন ভালো হয়ে গেল। ওরাই আমাদের আলোময় আগামী। অনেক বড়ো হও। তোমার জন্য একবুক রক্তিম অভিনন্দন।’