মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও ইভিএম কারচুপি রোধ করা গলে না। দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা। একসঙ্গে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি ঘিরে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবারই এই ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। ঠিক কতগুলি বুথে পুনর্নির্বাচন, তা নিয়ে ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সূত্রের ইঙ্গিত, সিদ্ধান্ত হলে ১ মে-ই পুনর্ভোটের নির্দেশ জারি হতে পারে।
কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনের জন্য ৭৭টি দাবি বা অভিযোগ জমা পড়েছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ৩২টি। তাও ফলতা থেকে। এরপর রয়েছে ডায়মন্ডহারবার ২৯টি, মগরাহাট থেকে ১৩ ও বজবজ থেকে ৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের ধরনও বিস্ময়কর, কোথাও ইভিএমে টেপ লাগানো, কোথাও সুগন্ধি ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। এমনকী ক্যামেরা ঢাকতে রুমাল চাপা দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে অভিযোগপত্রে। কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তরফে সরকারি ভাবে কিছূ জানানো না হলেও সূত্রের খবর, পুনর্নির্বাচনের অধিকাংশ অনুরোধই এসেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির তরফে।
অন্যদিকে, ভোটের অন্তিম লগ্নে বিস্ফোরক অভিযোগ জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনে। ডায়মন্ড হারবারের মগরাহাট পশ্চিমে এক ভোটারের জামার পকেটে নাকি স্পাই ক্যামেরা রাখা ছিল, এমন অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনে। দাবি, ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন তা নজরদারি করার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা। ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। মারাত্মক এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। সূত্র মারফত খবর, অভিযোগের সত্যতা থাকলে প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২৩ এপ্রিল ১৫২টি বিধানসভার ৪৪,৩৭৬টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু একটিতেও পুনর্নির্বাচন হয়নি। এমনকী এই বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক দল দাবিও জানায়নি। সেখানে দ্বিতীয় দফার পর এক জেলার এতগুলি বুথ নিয়ে অভিযোগ উঠায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন বাড়ছে। তাও আবার কিনা সবগুলিই দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন উত্তরপ্রদেশের ‘সিংঘম’ অজয় পাল শর্মা। একেবারে ময়দানে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। কিন্তু এরপরেও বিজেপির তরফে এতগুলি বুথে পুনর্নির্বাচন দাবি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
