বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফার ইভিএমগুলো ইতিমধ্যেই স্ট্রংরুমে চলে গিয়েছে। আর কয়েকদিন পরই ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হবে। তবে তার আগেই গণনাকেন্দ্রের বিন্যাস এবং কর্মী নিয়োগ নিয়ে আইনি জট দেখা দিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের দুটি পৃথক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে জোড়া মামলা দায়ের করলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য।
জানা গিয়েছে, আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন গণনাকেন্দ্রের সুপারভাইজার হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই আবহে তৃণমূল সাংসদের দাবি, এই পদক্ষেপ নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের শামিল এবং এর ফলে গণনার নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা ভোট গণনার কাজ করতে পারেন। কিন্তু সেটা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারির মধ্যে কাকে করতে হবে, তা নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট করে বলা নেই। এই আবহে এবারে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ওপরেই এই দায়িত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এবং তাতেই আপত্তি তৃণমূলের।
এদিকে বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য নিজের মামলায় অভিযোগ করেছেন গণনাকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন নিয়ে। তাঁর দাবি, হঠাৎ করে এভাবে গণনাকেন্দ্রের স্থান বদল করা আইনত সঠিক নয়। উল্লেখ্য, এবারে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে কেন্দ্রীকরণের পথে হাঁটা হয়েছে। আর তাতেই আপত্তি ঘাসফুল শিবিরের। প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে পদে পদে নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতা করা হয়েছে। এসআইআর থেকে শুরু করে আমলা পরিবর্তন, দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারি, পর্যবেক্ষকদের এক্তিয়ারের মতো একাধিক ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এবার নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে ভোটের গণনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব ঘাসফুল শিবির। এ যেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি জয়ের এক ‘শেষ চেষ্টা’। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুটি মামলা দায়েরেরই অনুমতি মিলেছে বলে আদালতের তরফ থেকে।
