West Bengal Exit Poll 2026। মৌন ভোটাররাই গেমচেঞ্জার? বাংলার বুথ ফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করল না Axis My India

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গে সদ্য শেষ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। যা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট বলেই মনে করছেন অনেকে। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন? নাকি পালটে যাবে বাংলার সরকার? উত্তর মিলবে ৪ মে ভোটগণনার পর। কিন্তু বুধবার বাংলায় দ্বিতীয় দফায় ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই থেকে একের পর এক সংস্থার বুথ ফেরত সমীক্ষা প্রকাশ্যে এসেছে। অধিকাংশ এক্সিট পোলে স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত মিলছে না। তবে পি-মার্ক, ম্যাট্রিজ, চাণক্য স্ট্র্যাটেজির মতো একাধিক সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে বিজেপি। আবার পিপলস পালস, জনমতের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আবার সরকার গড়বে তৃণমূল কংগ্রেসই। যাবতীয় এক্সিট পোল ঘিরে নেটদুনিয়ায় চলছে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা।

এই আবহে এক্সিট পোলের আরেক বিশ্বাসযোগ্য সংস্থা ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ অন্য রাজ্যের নির্বাচনের বুথ ফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করলেও বাংলা নিয়ে কিছুই বলেনি। বুধবার এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান প্রসিদ্ধ পসেফোলজিস্ট প্রদীপ গুপ্ত জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার পর তাদের কাছে নিজেদের পছন্দের কথা প্রকাশ করছেন না ভোটাররা। তাঁর কথায়, ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’-র পদ্ধতি হলো মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা। আর প্রথম দফার ভোটের পর যখন আমরা কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম, তখন প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ একডোম নীরব ছিলেন। তারা হ্যাঁ বা না বলতেও রাজি হননি।’ প্রদীপ গুপ্ত জানান, ‘নির্বাচনের আবহে কেউই কারোর সঙ্গে কথা বলতে রাজি নয়। তাই ২০-৩০ শতাংশ ডেটার ভিত্তিতে কোনও সংখ্যা অনুমান করা সঠিক বলে আমরা মনে করি না। আমরা বৃহস্পতিবার আবারও চেষ্টা করব। হয়তো এখন নির্বাচন হয়ে যাওয়ায় মানুষ স্বস্তিতে রয়েছে।’

তবে এই নীরবতা মানে উদাসীনতা নয়। বরং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কৌশলগতভাবে তথ্য গোপন রাখার প্রবণতার মিশ্রণ এতে কাজ করে। এক্সিট পোল সাধারণত ভোট দেওয়ার পর স্বেচ্ছায় তথ্য প্রকাশের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু যদি অনেকেই উত্তর দিতে অস্বীকার করেন বা ভুল তথ্য দেন, তাহলে পুরো ডেটাই বিকৃত হয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে মেরুকৃত পরিবেশে নীরব ভোটাররা এক্সিট পোলের মডেলে একটি বড় অদৃশ্য ফাঁক তৈরি করেন। এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয় নন-রেসপন্স বায়াস, যেখানে যারা উত্তর দিতে চান না, তারাই প্রায়শই সমীক্ষার কাঠামোর সঙ্গে খাপ খায় না, ফলে তাদের মতামত যথাযথভাবে ধরা পড়ে না। নীরব থাকার কারণও এক নয়। কোথাও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ভয়, কোথাও ব্যক্তিগত সতর্কতা, আবার কোথাও কৌশলগত নীরবতা-সব মিলিয়েই এই প্রবণতা তৈরি হয়। ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনে, অল্প সংখ্যক নীরব ভোটারও একাধিক আসনের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তাই আধুনিক নির্বাচনী বিশ্লেষণে তাঁদের ‘হিডেন সুইং ফ্যাক্টর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রকাশ্যে আসা ট্রেন্ডের চেয়েও অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় অপ্রকাশিত জনমত। শেষ পর্যন্ত এই মৌন ভোটাররাই কী বাংলার মসনদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *